সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: ডানলপ থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের জন্য বিটি রোডের নীচ থেকে জলের পাইপ সরানোর প্রস্তাব দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই প্রস্তাবের বাস্তবতা খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং খড়্গপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞদের মতামত চায় কর্তৃপক্ষ। বিটি রোডের নীচে থাকা দীর্ঘদিনের পুরনো পাইপগুলি দিয়ে পলতা থেকে টালায় পরিস্রুত পানীয় জল পাঠানো হয়। টালা থেকে মূলত সেই জলই সারা কলকাতায় সরবরাহ করা হয়। এই পাইপগুলিই সরানোর প্রস্তাব দিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। শুধু সরানো নয়, সেই সঙ্গে নতুন পাইপলাইন বসানোরও প্রস্তাব দিয়েছে তারা। কিন্তু সেই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত কি না, তা খতিয়ে দেখতে দু’টি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মতামত নিতে চাইছে কলকাতা পুরসভা।
কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, মেট্রো কর্তৃপক্ষ পাইপলাইন সরানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা বাস্তবসম্মত কি না, তা দেখার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা অনুরোধ করেছি। তাঁদের মতামত আসার পরে আমরা খড়্গপুর আইআইটি থেকেও এ ব্যাপারে মতামত নেব। দু’টি মতামত যদি মেট্রো কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবকে বাস্তবসম্মত বলে জানায়, তাহলে আমরা অনুমতি দিতে রাজি আছি। না হলে কোনও কারণে যদি বর্তমান জলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বড় বিপদ হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণ দীর্ঘদিনের দাবি রাজ্য সহ এলাকাবাসীর। এজন্য মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ ডানলপ থেকে বারাকপুর চিড়িয়ামোড় পর্যন্ত দু’টি পর্যায়ে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে। ঠিক হয়েছে, ডানলপ থেকে বারাকপুর পর্যন্ত ১১টি স্টেশন তৈরি করা হবে। তবে সবই হবে মাটির উপরে। প্রথম পর্যায়ে ডানলপ থেকে সোদপুর পর্যন্ত, দ্বিতীয় পর্যায়ে সোদপুর থেকে বারাকপুর পর্যন্ত এই সম্প্রসারণ হবে। পার্থ ভৌমিক সাংসদ হওয়ার পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি দিয়ে মেট্রো রেল বারাকপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছিলেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে।
তবে, রাজ্য সরকার ওই মেট্রো লাইন কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু দূরত্ব বৃদ্ধি পাবে বলে রেল তা নাকচ করে দিয়েছে। এদিকে, বিটি রোড দিয়ে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায় হল এই রাস্তার নীচে থাকা ছ’টি পাইপলাইন। যেগুলি যথাক্রমে ৬৪, ৭২, ৪২, ৬০, ৪৮ এবং ৬২ ইঞ্চি ব্যাসের। এই পাইপগুলিই একের পর এক সরিয়ে মেট্রো লাইন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুরো বিষয়টিই এখন নির্ভর করছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং খড়্গপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর।