পরীক্ষার মাধ্যমে ঝাড়াই-বাছাই সিভিক ভলান্টিয়ারদের, সিদ্ধান্ত রাজ্য পুলিশের
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ারদের ঝাড়াইবাছাই করা হবে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে এবার সিভিকদের শিক্ষাগত ও শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা শুরু হচ্ছে জেলায় জেলায়। তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা কতটা, আইন কতটা জানেন ও সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে কি না, সবকিছুই পরীক্ষা দিতে হবে। মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষার ভিত্তিতে সিভিকদের যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হবে। যাঁরা সসম্মানে উতরিয়ে যাবেন, ভবিষ্যতে তাঁদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। কিন্তু যাঁরা মাপকাঠি পেরোতে পারবেন না, তাঁদের কঠিন ‘বাস্তবের’ মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

তৃণমূল জমানায় পার্টির লোকজনের সিংহভাগ সিভিকের চাকরি পেয়েছেন। ‘দাদা’ ধরে পাওয়া চাকরিতে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতা কোনওটাই যাচাই করা হয়নি। সিভিকদের অনেকেই আমজনতার সঙ্গে দুর্বব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ। পালাবদলের পর সিভিকদের মধ্যে থাকা বেনোজল দূর করতে  করতে উদ্যোগী হয় নতুন সরকার। স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে নির্দেশ যায়, কর্মরত সিভিকদের শারীরিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, সেটা দেখতে হবে। তার ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে সমস্ত জেলা। ইতিমধ্যেই কোচবিহার জেলা সিভিকদের ফিজিক্যাল পরীক্ষা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপাকাঠি ঠিক করতে নম্বর ধার্য করেছে। দুটি বিষয় মিলিয়ে ৫০ নম্বর রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, তা অনুসরণ করছে অন্য জেলাগুলিও। 
রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সিভিকদের শারীরিক পরীক্ষার মধ্যে রাখা হয়েছে দৌড়, ওঠবোস, সিটআপ, উচ্চতা, ওজন, ছাতির মাপের মতো বিষয়। এক থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়তে হতে পারে সিভিকদের। ওঠবোস করতে হবে বরাদ্দ সময়ের  মধ্যে। প্রতিটি বিষয়ে আলাদা মার্কস থাকবে। এরজন্য সবমিলিয়ে ২৫ নম্বর ধার্য থাকছে বলে খবর। এর সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান কী রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হবে। সেই সঙ্গে উৎকর্ষতা ও কম্পিউটারের সাধারণ জ্ঞানের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সবমিলিয়ে এক্ষেত্রে বরাদ্দ নম্বর হলো ২৫। শারীরিক ও শিক্ষাগত-পেশাগত যোগ্যাতা মিলিয়ে একটা কাট অফ মার্কস রাখা থাকবে। সেই মাপকাঠি সকলেই ছুঁতে হবে। তার ভিত্তিতে সিভিকদের ক্রমতালিকা তৈরি হবে। সিভিকদের মধ্যে যাঁদের শারীরিক ও পেশাগত যোগ্যতা নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ যে গ্রহণ করা হবে, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। -ফাইল চিত্র