


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তদন্ত করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছেন অফিসাররা। বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ভুল থেকে যাচ্ছে। আদালতে মামলা দাঁড় করাতে কী কী তথ্য-প্রমাণ লাগবে, তা অনেক ক্ষেত্রেই বুঝতে পারছেন না তদন্তকারীরা। সাক্ষ্য বা তথ্য-প্রমাণের অভাবে মামলা থেকে খালাস পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। এই ধরনের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এবার এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চলেছে রাজ্য পুলিশ। তদন্তে কোন কোন জায়গায় গুরুত্ব দিতে হবে বা কী কী তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি, সবটাই বলে দেবে এআই। এমনকি, আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের কেস ডায়েরি লেখার ক্ষেত্রেও সাহায্য নেওয়া হবে এই প্রযুক্তির।
দেশজুড়েই বাড়ছে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার। এর মাধ্যমে অনেক সূক্ষ্ম জিনিস কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এই কারণে পুলিশ বিভাগে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ছে এআই প্রযুক্তি। রাজ্য পুলিশ কর্তাদের নজরে এসেছে, যেকোনও ধরনের ঘটনায় ঘটনাস্থলে গিয়ে রীতিমতো খাবি খাচ্ছেন তদন্তকারী অফিসাররা। কোন বিষয়টি ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করতে হবে আর কোনটা বাদ দিতে হবে, তা আলাদা করা বিশেষ জরুরি। সেইসঙ্গে সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও অনেক ভুল ত্রুটি থেকে যাচ্ছে। আদালতে জমা দেওয়া কেস ডায়েরিতে থাকছে একাধিক ফাঁকফোকর। অধিকাংশ কেস ডায়েরি অফিসার নিজে লিখছেন না। ‘রাইটার’ হিসেবে ভাড়া করা হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত কোনও অফিসারকে। তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে ঘাটতি থাকায় তাঁদের পক্ষেও এই ফাঁক ভরাট করা সম্ভব হচ্ছে না। এই কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন পেয়ে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাতে মুখ পুড়ছে পুলিশের। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জেরার ক্ষেত্রে অফিসাররা ঠিকমতো নিজেদের ‘ফোকাস’ করতে পারছেন না। জেরা করার মতো দক্ষ অফিসারের সংখ্যা কমছে। নতুন অফিসারদের অনেকেই জানেন না কোন কোন বিষয়ে জোর দিলে অভিযুক্তকে দিয়ে গোটা ঘটনা কবুল করিয়ে নেওয়া যাবে। গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও অপরাধীকে শনাক্ত করতে অসুবিধা হচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় ও মামলাকে আরও জোরালো করতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আসছে রাজ্য পুলিশ।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন তথ্য আপলোড করা থাকবে। তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে কী কী খুঁজবেন, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কোন কোন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে, বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া কী হবে, সাক্ষীদের থেকে কোন কোন বিষয় জানা দরকার প্রভৃতি তাঁরা পেয়ে যাবেন এআইয়ের মাধ্যমে। এতে সময় নষ্ট হবে না। তদন্ত দ্রুত শেষ করা যাবে। পাশাপাশি তদন্তপ্রক্রিয়া হবে অত্যন্ত নিখুঁত। কেস ডায়েরি লেখার জন্য বাড়তি সময় দিতে হবে না। অন্য কাজের সময়ও অফিসাররা তা ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি জেরার সময় অভিযুক্তকে কী কী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে, তাও বলে দেবে এআই। অপরাধীদের ‘ম্যাপিং’ এবং ‘ফেস রেকগনিশনের’ ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে। পরীক্ষামূলকভাবে একটি কমিশনারেট এবং একটি জেলায় এটি শুরু হয়েছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে গোটা রাজ্যেই চালু করা হবে বলে খবর।