নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে বিশেষ প্যাকেজ আনতে চলেছে রাজ্য পর্যটন দপ্তর। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দপ্তরের বাজেট পেশ করার সময় জানান মন্ত্রী শংকর ঘোষ। পরে এক সাংবাদিক বৈঠকে পর্যটন দপ্তরের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তিনি তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই দেশ-বিদেশের পর্যটকরা বাংলার দুর্গাপুজো দেখতে আসেন। তাই ভ্রমণপিপাসু সকলের কাছে আবেদন, বাংলার দুর্গাপুজো উপভোগ করতে কলকাতা এবং জেলাগুলিতে আসুন। এই আরজি বাংলা এবং ভিন রাজ্যের মানুষ—সকলেরই কাছে। এই সময়ের জন্য একটি স্পেশাল প্যাকেজ আনতে চলেছি আমরা। কী কী থাকবে, তা যথাসময়েই জানাব। পুজোয় কলকাতা এবং বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বেড়াবার পরিকল্পনা এখনই নিন সকলে।
দুর্গাপুজোর কার্নিভাল এবারও হবে কি? মন্ত্রী জানান, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার তাদের পর্যটন দপ্তরকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার প্রায় ৫২৮ কোটি টাকার বিভাগীয় বাজেট পেশ করেছে। সমাজের সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে যাবে দপ্তরের পরিষেবা। এই বাজেটের সূত্র ধরে পর্যটনমন্ত্রীর ঘোষণা, সরকারের মূল লক্ষ্য—‘টুরিজম ফর অল’। এমনকি এই বাজেটে তুলে ধরা হয়েছে দপ্তরের দর্শন—‘আসছি বলেও ফিরে আসা যায়।’ মন্ত্রী অঙ্গীকার, কুয়োর ব্যাঙকে (পর্যটন দপ্তর) সমুদ্রে পৌঁছে দেব।
এই লক্ষ্যে পাঁচটি কৌশলগত নীতি নিয়েছে রাজ্য। সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপান্তরিত করা, সাধারণ মানুষের কাছে পর্যটনকে সহজলভ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলার পর্যটনকে তুলে ধরা, পশ্চিমবঙ্গকে পর্যটন হাব-সহ পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসাবে গড়ে তোলা, পর্যটনকে অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করা। এছাড়াও টুরিজম ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পলিসি তৈরি করবে রাজ্য। কলকাতাকে পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। রয়েছে কলকাতাকে ক্যাপিটাল হাব করার পরিকল্পনা। তার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে দু-হাজার সেমিনার করবে দপ্তর। দেশের নানা প্রান্তে, এমনকি বিদেশে গিয়েও বাংলার পর্যটন বিপণন করবে রাজ্য। দার্জিলিং, মন্দারমণি এবং সুন্দরবনকে ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ বা ‘আন্তর্জাতিক গন্তব্য’ হিসাবে গড়ে তোলারও পরিকল্পনা নিয়েছে দপ্তর।
অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানের এক বিধায়কের অভিযোগ, বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পৈতৃক ভিটেয় তৃণমূল আমলে শৌচাগার বানানো হয়েছে! এবিষয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমি জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলব। দপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুসারেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।