নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বিঘ্নেই কাটল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা। রবিবার সকাল থেকেই কলকাতা শহর ছিল কার্যত পরীক্ষাময়। একদিকে চলছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স আর অন্যদিকে সর্বভারতীয় ইউপিএসসি পরীক্ষা। সকাল থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পড়ুয়াদের সঙ্গে অভিভাবকদের ভিড় চোখে পড়েছে। প্রতিটা কেন্দ্রেই প্রবেশ করার আগে পরীক্ষার্থীদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেল, নিরাপত্তার কারণে পরীক্ষার্থীদের পা ঢাকা জুতো খুলিয়ে খালি পায়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
যাদবপুর বিদ্যাপীঠ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। সেখানে মোটামুটি সকাল ১০টার মধ্যেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে গিয়েছিলেন। যাদবপুর বিদ্যাপীঠে নিরাপত্তার কারণে খালি পায়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেল। প্রথমার্ধে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ছিল অঙ্ক পরীক্ষা। তারপর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত ছিল পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়নের পরীক্ষা। বিরতির সময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দরজা খোলা হচ্ছিল না বলে অভিভাবকদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের খানিক কথা কাটাকাটি হয়। অভিভাবকদের দাবি ছিল, তাঁরা বিরতির সময় পরীক্ষার্থীদের হাতে টিফিন তুলে দেবেন। কিন্তু নিরাপত্তাপরক্ষীদের বক্তব্য, বিরতির সময় পরীক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারবে না। যদিও খানিক কথা কাটাকাটির পর অভিভাবকরা ক্যাম্পাসের ভিতর গেটের সামনে খাবার নিয়ে দাঁড়ান। পরীক্ষার্থীরা এসে অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা বলতে থাকেন, সবটাই ক্যাম্পাসের ভিতরে হবে। পরীক্ষার্থীরা বের হতে পারবেন না। আবার বেথুন স্কুলের কয়েকজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে এসে বলেন, অঙ্কের প্রশ্ন বেশ কঠিন ছিল। ১২০ মিনিটে ৭৫টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন ছিল বলেই জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর দাবি, অঙ্কের প্রশ্ন বেশ বড়ো ও জটিল। সেগুলি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা কষ্টসাধ্য হয়েছে। যদিও রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন যথাযথ হয়েছে বলেই জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড জানিয়েছে, এবছর ১ লক্ষ ২০ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। রাজ্যে মোট ২৬৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরায় ২টি ও অসমে ১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নেই কেটেছে এদিনের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা।