ছাত্র কী শিখল দেখে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি রাজ্যে, প্রতি ক্লাসের দায়িত্বে একজন, সিদ্ধান্ত সরকারের
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কতটা শিখল ছাত্রছাত্রীরা? এই প্রশ্নের উত্তরের উপরই এবার থেকে নির্ভর করবে প্রাথমিক স্কুলশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে শিক্ষাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথাই জানিয়েছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। প্রাথমিক শিক্ষার হাল ফেরাতেই এই উদ্যোগ বলে তাঁর দাবি। পাশাপাশি, এবার থেকে প্রাথমিকের প্রতি ক্লাসের দায়িত্বে একজন শিক্ষকই থাকবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। সেই শিক্ষকই সংশ্লিষ্ট ক্লাসের সমস্ত বিষয় পড়াবেন। ক্লাসের পড়ুয়াদের উন্নতির ভার এবং দায়িত্ব থাকবে শুধুমাত্র তাঁর উপর।

Advertisement

আগামী বছর থেকে শুরু হতে চলেছে এই নয়া ব্যবস্থা। দীপকবাবু বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরে বাংলা, ভূগোল, ইংরেজি বা অঙ্কের জন্য আলাদা শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। যে যোগ্যতার শিক্ষকরা আসেন, তাঁরা ওই স্তরে সব বিষয়ই পড়াতে পারেন। তাই ক্লাসপিছু একজন শিক্ষক রেখে এগতে চাইছে সরকার। সোমবার একজন শিক্ষক, মঙ্গলবার আর একজন শিক্ষক—এই ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি ক্লাসে একজন শিক্ষকই প্রতিদিন পড়াবেন। সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্তত ২০ জন পড়ুয়ার সমস্ত বিষয়ের দায়িত্ব নিতে হবে একজন শিক্ষককেই। কোনো ক্লাসে যদি তার চেয়ে কম পড়ুয়া থাকে, তাহলে আরও একটি ক্লাস তাঁকে দেওয়া যেতে পারে। তবে, বছর শেষে নিজের ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির জন্য জবাবদিহিতে বাধ্য থাকবেন শিক্ষকরা। পড়ুয়ারা কতটা শিখল, তার উপরই নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ইনক্রিমেন্ট পাবেন কি না।’ বর্তমানে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে বেতনবৃদ্ধি হয় শিক্ষকদের। তা এবার পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করবে বলেই ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর। তিনি স্কুলে আরও পরিদর্শন বাড়ানোর উপরও জোর দিয়েছেন।
এই ব্যবস্থা নিয়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক মহলে। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, ‘মন্ত্রী যা বলেছেন, তার বাস্তব রূপায়ণ কার্যত অসম্ভব। অনেক শিক্ষককে দু’টি বা তিনটি ক্লাসের দায়িত্ব এমনিতেই নিতে হয়। তাছাড়া, কোনো এলাকার ছাত্রছাত্রীরা কতটা শিখবে, তা এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির উপরও নির্ভর করে। তাছাড়া, শিক্ষকদের মূল্যায়ন কীভাবে হবে, রাজনৈতিক রং না দেখে মূল্যায়ন হবে কি না, সেটাও পরিষ্কার নয়।’ বিজেপি শিক্ষক সেলের যুগ্ম আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘এ প্রস্তাব আমাদেরই ছিল। একজন শিক্ষক যাতে একটি ক্লাসেরই দায়িত্বে থাকেন, তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছিলাম। মন্ত্রী সেটাই বলেছেন। তবে, বহু স্কুলে প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া আসে। প্রধান শিক্ষক হিসাবে আমি নিজেই অনেক সময় বাইকে চেপে ঘুরে মাঠঘাট থেকে অথবা বাড়ি থেকে পড়ুয়াদের স্কুলে নিয়ে এসে পড়তে বাধ্য করি। ফলে, এলাকার আর্থ সামাজিক দিকটি মাথায় রেখেও শিক্ষকদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করা দরকার।’
শিক্ষক সংগঠন এবিজিটিডব্লুএ-র সম্পাদক চন্দন গরাই বলেন, ‘প্রতি ক্লাসে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে, তার আগে প্রত্যেক স্কুলে ছ’জন শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করুক সরকার।’ দীপকবাবু অবশ্য এদিন বলেছেন, ‘বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে ২৬ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক রয়েছেন। নিয়োগ সম্পন্ন হলে ২০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক হবেন। তখন আর সমস্যা থাকবে না।’