নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় আদিবাসী পড়ুয়াদের শিক্ষার প্রসারে জোর দিচ্ছে রাজ্যের নতুন সরকার। এই জেলার ছ’টি ব্লক আদিবাসী অধ্যুষিত। এই সমস্ত ব্লকে ইতিমধ্যে আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্য ১২টি হস্টেল রয়েছে। এবার জেলায় সবচেয়ে বেশি আদিবাসী অধ্যুষিত নবগ্রাম ব্লকের নেহেরুনগরে একটি নতুন হস্টেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রচুর আদিবাসী পড়ুয়া সরকারি খরচে হস্টেলে থেকে পড়তে পারবে। শুধু তাই নয়, আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে এবার জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা শিবির করে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। কেন্দ্রের ‘জন ভাগীদারি’ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই জেলায় ৫৬টি এমন শিবির হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ৯১হাজার তফশিলি উপজাতির মানুষ রয়েছেন। তাঁদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সরকার নানা প্রকল্পের কথা ভাবছে। আদিবাসী সমাজের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার সুবন্দোবস্ত করতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। আর তাই নবগ্রামের নেহরুনগরে একটি আদিবাসী হস্টেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলাশাসক আর অর্জুন বলেন, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ১২টি হস্টেল আছে। ৪৭০জন পড়ুয়া সেখানে থেকে পড়াশোনা করে। নেহরুনগর আদিবাসী বিদ্যালয়ে নতুন হস্টেল চালু হবে। ফলে আরো বহু পড়ুয়া আবাসিক থেকে পড়াশোনা করতে পারবে।
আদিবাসীদের উন্নয়নে আরো নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেকথা জানিয়ে জেলাশাসক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জন ভাগীদারি অভিযান’-এর মাধ্যমে আমরা জেলার ছ’টি ব্লকের ১৭টি গ্রামে মানুষকে পরিষেবা দিয়েছি। ৫৬টি শিবিরে ১৭ হাজার ১০০জন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাঁদের নানা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এই শিবিরে ৩১২জন আধার কার্ড-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে এসেছিলেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কার্ডের জন্য ৩৫জন আবেদন করেছেন। ৩৯০জন জাতিগত শংসাপত্রের জন্য, ১২৫জন পেনশন যোজনা, ৫৩৬জন সিকল সেল টেস্টিংয়ের জন্য আবেদন করেন। রেশন কার্ডের জন্য ৫২৩টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। জেলাশাসক জানান, মুর্শিদাবাদ জেলায় ৬৯০৫জন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ পেনশন পাচ্ছেন। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরো বাড়বে।
আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্য নতুন হস্টেল চালু হবে-এখবরে খুশি নবগ্রামের বাসিন্দারা। পাখিরাডাঙা আদিবাসী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত মাড্ডি বলেন, ওখানে ৫০জন আদিবাসী মেয়ে থেকে পড়াশোনা করতে পারবে। এর ফলে আদিবাসী মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়বে। আদিবাসী সমাজে শিক্ষার প্রসার হবে। আমরা চাই, এমন আরো হোস্টেল হোক। তাহলে বহু ছেলেমেয়ে নিখরচায় হস্টেলে থেকে পড়তে পারবে। নবগ্রামের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সাহা বলেন, এটা নতুন রাজ্য সরকারের খুব ভালো পদক্ষেপ। এতে আদিবাসী সমাজ উপকৃত হবে।