অতিরিক্ত শূন্য আসনের জন্য র‌্যাংকিংয়ে মার খাচ্ছে রাজ্যের কলেজগুলি: রিপোর্ট
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিকাঠামো এবং শিক্ষকের অভাব নেই। অথচ কলেজে পড়ুয়া হাতে গোনা। রাজ্যে এরকম উদাহরণ ভূরি ভূরি। পুজোর আগে এই ধরনের কলেজগুলি নিয়ে বিকাশ ভবনে রিপোর্ট জমা দিয়েছে স্টেট লেভেল মনিটরিং অ্যান্ড অ্যাডভাইজরি কমিটি ফর এনআইআরএফ। ১৪ অক্টোবর পেশ করা সেই রিপোর্টে কলেজগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রস্তাব রয়েছে। আর তা হলেই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র‌্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্কে উন্নতি হতে পারে রাজ্যের কলেজগুলির।

Advertisement

এ রাজ্যের ডিগ্রি কলেজগুলির সর্বভারতীয় স্তরে প্রতিনিধিত্ব বেশ করুণ। ২০২৪ সালে দেশের প্রথম একশোয় ছিল রাজ্যের মাত্র সাতটি কলেজ। পরের বছর সেই সংখ্যা কমে হয় পাঁচ। ২০২৬ সালের র‌্যাংকিং এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে এ বছরের জন্য আর বিশেষ কিছু করার নেই। তাই ২০২৭ সালে যাতে অন্তত ২০টি কলেজ প্রথম একশোয় থাকে, সেই লক্ষ্যে এগতে চাইছে সরকার। তার জন্য প্রথম দফায় ৪৬টি কলেজ এবং দ্বিতীয় দফায় ৫৪টি কলেজ মিলিয়ে মোট ১০০টি কলেজের পরিদর্শন, সেগুলির র‌্যাংকিংয়ের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কাজ শুরু করেছে কমিটি। তাতেই উঠে এসেছে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাজ্যে ৪৩০টিরও বেশি কলেজ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৩৮০টি কলেজের ন্যাক অনুমোদন রয়েছে। এটা থাকলেই অংশ নেওয়া যায় এনআইআরএফে। র‌্যাংকিং উন্নতিতে প্রধান অন্তরায় হল কলেজগুলির শূন্য আসন। এটি কোনো একটি কলেজের সমস্যা নয়। রাজ্যে স্নাতক স্তরে সাড়ে ন’লক্ষ আসন রয়েছে। তার অর্ধেকও পূরণ হয় না। আর শূন্য আসন থাকলে পয়েন্ট নেমে যায় অনেকটাই। ফলে র‌্যাংকিং খারাপ হয়। কমিটি দেখেছে, অপরিকল্পিতভাবে ছোটো এলাকায় একাধিক কলেজ স্থাপনের ফলে এই সমস্যা রয়েছে। একই পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত পুরানো কলেজের প্রতি ঝোঁক বেশি থাকছে পড়ুয়াদের। আর তুলনায় নতুন বাকি কলেজগুলির আসন ফাঁকা থেকে যাচ্ছে। আরও দেখা গিয়েছে, সব কলেজেই সব বিষয় চালু রয়েছে। পাশাপাশি কলেজে একই বিষয় চালু থাকলে দুটির মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছেন পড়ুয়ারা। 
এখন উপায় কী? কলেজ বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা। তবে কলেজগুলিতে কম পড়ুয়া থাকা বিভাগগুলি বন্ধ করে দেওয়া যায় বলে মনে করছেন তাঁরা। বাড়তি শিক্ষকদের পার্শ্ববর্তী কলেজ, যেখানে পড়ুয়ার চাপ রয়েছে, সেখানে বদলি করা যায়। আগের কলেজে এমন বিভাগ চালু করা যেতে পারে, যা কাছাকাছি কলেজে নেই। এতে সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।