দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: রাজ্যে বিধানসভা ভোটকে আর এক বছরও বাকি নেই। অথচ, রানাঘাটে গেরুয়া শিবিরের হাল তথৈবচ। অভিভাবকহীন ছন্নছাড়া দশা তাদের। জেলা সভাপতির মেয়াদ ফুরিয়েছে অনেকে আগেই। কিন্তু এখন সেই পদে কে বসবেন, তা চূড়ান্ত করতে পারেনি বিজেপি। ফলে, দিশাহীন জেলা সংগঠনের নিচুতলার নেতা ও কর্মীরা। এই অবস্থায় বিধানসভা ভোটে কীভাবে তৃণমূলের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়েছে বিজেপির অন্দরে।
তৃণমূল ছেড়ে পদ্মশিবিরে যাওয়ার পর নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি পদে বসানো হয়েছিল পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর মেয়াদ ফুরিয়েছে। গুঞ্জন চলছে, বদল হতে পারে জেলার মুখ। নতুন সভাপতি কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মত দলের একাংশের। কিন্তু সেই ‘সময়’ কবে আসবে, তা নিয়ে অন্ধকারে দলের একটা বড় অংশ। এখনও নতুন সভাপতির নামই ঘোষণা করতে পারেনি বিজেপির বঙ্গ-ব্রিগেড। এখন জোড়াতালি দিয়ে চলছে সংগঠন। স্বাভাবিকভাবে নিচুতলার মনোবল একেবারে তলানিতে। নেই কোনও দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি। ফলত, ছাব্বিশে রানাঘাটের মতো শক্তঘাঁটি রক্ষা করা যাবে কিনা, সেই প্রশ্নে দিশেহারা পদ্ম কর্মীরা।
নদীয়া দক্ষিণে বিজেপির একটা সূত্র বলছে, জেলা সভাপতি হিসেবে নেতা খোঁজার দায়িত্ব পেয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ সরকার এবং রাজ্যের নেতা তথা নদীয়ার ডিআরও প্রবাল রাহা। তাঁরা পুরনো কার্যকর্তা, কোর কমিটি ও দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা করে তিন-চারজনের নাম চূড়ান্ত করে নিয়ে যান। কিন্তু রাজ্য নেতারা আজও সেই তালিকা দেখে একজনকেও জেলা সভাপতি হিসেবে ঘোষণাই করতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন, একের পর এক রাজনৈতিক ইস্যু হাতছাড়া
হয়ে যাচ্ছে। কর্মীরা মাঠে নামতে না পেরে আশাহত। জেলা কমিটি নেই মানে মণ্ডলস্তরেও কাজকর্মও লাটে।
রাজ্যে বিজেপির যে কয়েকটি শক্তঘাঁটি রয়েছে তার মধ্যে একটি রানাঘাট। সেখানে জেলা সভাপতি বাছতেই সংগঠনের কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ছে। এমন কোনও নেতাকে রাজ্য নেতৃত্ব পাচ্ছে না, যিনি সংগঠনকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
বর্তমান জেলা সভাপতি তথা রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, ‘সংগঠনের কার্যক্রম তো চলছেই। সদস্যতা অভিযানে আমরা ভালোই জনসংযোগ করেছি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বলে আমরা মাইক ব্যবহার করছি না। জেলা সভাপতির নাম যেকোনও দিন ঘোষণা হয়ে যাবে। এদিকে, রাজ্য নেতা তথা নদীয়ার ডিআরও প্রবল রাহা বলেন, এখন পুরো দায়িত্বটাই রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তরের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের হাতে। নির্দিষ্ট সময়ে নিশ্চয়ই নাম ঘোষণা হবে। সারা প্রদেশের মতো আমরা আমাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সেগুলি শুনেও নিয়েছেন। বাকিটা তাঁদের উপর নির্ভর করছে।