Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চিংড়িঘাটায় নভেম্বরে কাজ শুরুর ছাড়পত্র রাজ্যের, গড়িয়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো রুটে পরিষেবা আগামী বছর সেপ্টেম্বরে

চিংড়িঘাটায় মেট্রো প্রকল্পের কাজ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়েছে সমাধানসূত্র।

চিংড়িঘাটায় নভেম্বরে কাজ শুরুর ছাড়পত্র রাজ্যের, গড়িয়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো রুটে পরিষেবা আগামী বছর সেপ্টেম্বরে
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিংড়িঘাটায় মেট্রো প্রকল্পের কাজ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়েছে সমাধানসূত্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর (জয়হিন্দ মেট্রো স্টেশন) পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইন চালু হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে এ কথা জানিয়েছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড।

Advertisement

একাধিক জটিলতায় চিংড়িঘাটার কাছে প্রায় ৩৬৬ মিটার মেট্রোর কাজ আটকে ছিল। সে কারণে অরেঞ্জ লাইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। জট কাটাতে রাজ্য সরকার, পুলিশ, কলকাতা নগরোন্নয়ন পর্ষদ (কেএমডিএ), মেট্রো রেল এবং নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল’কে বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছিল, জনগণের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সদর্থক বৈঠক করতে হবে। আদালতের নির্দেশ মতো ৯ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসেছিল সব পক্ষ। 
এরপর বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে এদিন রাজ্য জানায়, মেট্রোর কাজের জন্য নভেম্বরের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সপ্তাহে ট্রাফিক ব্লক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে আরভিএনএল জানায়, নভেম্বরে ট্রাফিক ব্লক হলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা বেলেঘাটা থেকে আইটি সেন্টার পর্যন্ত মেট্রো লাইনের কাজ শেষ করে দিতে পারবে বলে আশা করছে। এ কথা জানার পর মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেয় বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চ। তবে আদালত জানিয়েছে, যেহেতু সমস্যা মিটে গিয়েছে, তাই আদালত আর বিষয়টিতে ঢুকছে না। তবে পরবর্তীকালে কোনও সমস্যা হলে বিষয়টি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের ছাড়পত্র দিয়েছে আদালত। 
জানা গিয়েছে, মূলত শনি ও রবিবার চিংড়িঘাটা মোড়ে ট্রাফিক ব্লক করা হবে। ওই দিনগুলিতে গাড়ি ঘোরানো হবে বিকল্প পথে। এই সময়ের মধ্যেই ৩৬৬ মিটার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে আরভিএনএল। আরভিএনএলে’র তরফে আগেই জানান হয়েছিল, সপ্তাহান্তে তিনদিন সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে ১২ ঘণ্টা করে কাজ করার সময় দিতে হবে। তাহলেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে। সেই মত সপ্তাহের শেষের দু’দিন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা হবে।
এছাড়াও রাজ্য আগেই হাইকোর্টে জানিয়েছিল, চিংড়িঘাটার কাছেই রয়েছে গৌরকিশোর ঘোষ স্টেশন। ওই মেট্রো স্টেশন চালু হলে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়বে। যানজট তৈরির আশঙ্কাও থাকবে। তাই চিংড়িঘাটায় একটি আন্ডারপাসের প্রয়োজন রয়েছে। মেট্রোকেই ওই আন্ডারপাস তৈরি করে দিতে হবে। জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশে যে বৈঠক হয়েছিল তাতে আন্ডারপাস তৈরির বিষয়ের জটিলতাও কেটে গিয়েছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলে নিউ গড়িয়া থেকে জয়হিন্দ মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইন চালু করা যাবে বলেই আশাবাদী মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কারণ মহিষবাথান এলাকায় দ্রুত কাজ চলছে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত এই মেট্রো প্রকল্পের জট কাটবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ