


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও কলকাতা: রাজ্যে দুর্যোগ পরবর্তী পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বড়ো অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করল নবান্ন। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আওতায় রাজ্যজুড়ে মোট ৪৭৭টি রাস্তার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। ১০ মার্চ, মঙ্গলবার জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে ইতিমধ্যেই প্রকল্পগুলির অনুমোদনের চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। প্রকল্পগুলির বিস্তারিত তালিকাও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একদিকে রয়েছে রাস্তা সংস্কার, পাশাপাশি আছে নতুন কংক্রিটের রাস্তা তৈরির ছাড়পত্রও। মোট ১৯০৮ কিলোমিটার রাস্তার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে দপ্তর।
এই প্রকল্পগুলি মূলত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিকাঠামো মেরামত ও উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয়েছে। মূলত ব্যাপক বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জেলায় রাস্তা, সেতু, খালপাড় মজবুত করা-সহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যাতে সাধারণ মানুষের সমস্যা কম হয়, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্পগুলি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। সরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, হুগলি, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, বারাসত, বসিরহাট, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ডায়মন্ডহারবার ও উত্তর দিনাজপুর সহ কয়েকটি জেলার অধীনে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে। সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ারদের দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও বসিরহাট ডিভিশনের আওতায় মোট ৩৭টি রাস্তা তৈরি হবে। বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। আর সেইমতো প্রতিটি রাস্তার ডেটাবেস তৈরি করছে দপ্তর। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসন এই কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু করছে। কারণ, নির্বাচন বিধি লাগু হলে এই কাজ আটকে যাবে। তাই দ্রুত প্রক্রিয়া সারতে চাইছে
দপ্তর। এনিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের এক কর্তার কথায়, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গ্রামীণ পরিকাঠামোকে আরো শক্তিশালী করতেই এই প্রকল্পগুলি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদনের পর এখন দ্রুত কাজ শুরু করার উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, এত সংখ্যক প্রকল্পে একসঙ্গে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হলে বিভিন্ন জেলার গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগোবে। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাকে বঞ্চনা করছে। তারপরেও গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের কাছে খামতি রাখছেন না মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বাড়ি তৈরি করতে টাকা দিচ্ছে সরকার। বুধবার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পেলেন মোট ৭৫ জন উপভোক্তা। বাঁকুড়ার ৬৪ জন, উত্তর ২৪ পরগনার তিনজন, কলকাতার তিনজন ও ঝাড়গ্রামের পাঁচজন। প্রশাসনিক মহলের মতে, এত বেশি প্রকল্পে একসঙ্গে অনুমোদন দেওয়া হলে বিভিন্ন জেলার গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতি কমাতেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।