Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাত বছর ধরে আসানসোলে বসে আমেরিকাবাসীদের প্রতারণা, ধৃত ৬

সাত বছর ধরে আসানসোলে বসে আমেরিকাবাসীদের প্রতারণা, ধৃত ৬
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সাত বছর ধরে পুলিসকে ঘোল খাইয়ে অবশেষে জালে পড়ল সাইবার প্রতারণা চক্রের ছয় পান্ডা। মঙ্গলবার নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গভীর রাতে আসানসোলের হটন রোডে প্রতারকদের ডেরায় অভিযান চালায় আসানসোল সাইবার থানার পুলিস। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় রজার, উইলিয়াম, জেমস, স্টিভ, অ্যালেন ও স্মিথকে। অবাক করার মতো বিষয় হল, এগুলো ধৃতদের কারওরই আসল নাম নয়। এইসব নামের আড়ালে চোস্ত আমেরিকান অ্যাকসেন্টে ইংরেজি বলে তারা বিভ্রান্ত করত শিকারদের। তাদের শিকাররা সবাই আমেরিকার নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনের মতো রাজ্যের বাসিন্দা। ওয়েব সাইট ডিজাইন করার নাম করে তারা এই প্রতারণার কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল। তাদের কথাবার্তা, চালচলনে বিন্দুমাত্র সন্দেহের উদ্রেক হয়নি কারও। অথচ তারা কেউ মাধ্যমিক, কেউ উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। পুলিসের যে সন্দেহ হয়নি তা নয়। আগে বেশ কয়েকবার তারা হানাও দিয়েছিল ওই ‘ওয়েব সাইট ডিজাইন’-এর অফিসে। কিন্তু বোকা বনে ফিরে আসতে হয়েছে। 
Advertisement
প্রাথমিক ভাবে পুলিস জানতে পেরেছে, কমপক্ষে সাত বছর ধরে ধৃতরা আমেরিকার মানুষকে বোকা বানিয়ে আসছে। আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকা লুট করেছে। বুধবার পুলিস এই গ্যাংয়ের ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী। অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিস কমিশনার মীর সইদুল আলি বলেন, আমরা ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছি। আমেরিকার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে তারা আমেরিকার মানুষকে সাইবার প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা লুট করত। তদন্ত প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। 
ধৃতদের মধ্যে আতহার আলি আজম আসানসোল দক্ষিণ থানার বুধার বাসিন্দা। সে আমেরিকাবাসীর কাছে রজার বা জন ইভেন্স নামে পরিচিত। সাত বছরে বহু আমেরিকানকে এই সব নামেই প্রতারিত করেছে সে। পুলিস যে ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে তার ম঩ধ্যে দলের পাণ্ডা আতহারই। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার একটি সংস্থার নাম করে সেদেশের বাসিন্দাদের ই-মেইল করা হতো। তাতে বলা হতো, আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস অ্যাটাক হয়েছে। ডাটা সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হতো। সেগুলি এই প্রতারকদেরই নম্বর। ফোন আসা মাত্রই রজার, জন এই সব নাম করে চোস্ত আমেরিকান ইংরেজিতে কথোপকথন শুরু করত ধৃতরা। কথার জালে ফাঁসিয়ে সেই বাসিন্দার কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে নিত। এরপরই লুট হতো টাকা। আতহারের সঙ্গী হিসেবে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে হীরাপুর থানার অন্তর্গত বিসি কলেজ হনুমান মন্দিরের অদূরের বাসিন্দা রাজীব গুপ্তাকে। যে মার্ক উই঩লিয়াম নাম নিয়ে প্রতারণা করত। বাকি চার প্রতারকের প্রত্যেকের বাড়িই আসানসোল উত্তর থানার রেলপারে। এরা হল মহম্মদ মুক্তার ওরফে জেমস, সৈয়দ রিজভি ওরফে ট্রেভর স্মিথ, মহম্মদ রিজওয়ান ওরফে অ্যা঩লেন ওয়েবার, মহম্মদ নেহাল আনসারি ওরফে স্টিভ মার্টিন। 
পুলিসি জেরায় অভিযুক্তরা জানিয়েছে, আমেরিকার এক প্রতারণা চক্রের এজেন্ট হিসেবে তারা কাজ করত। ওই চক্রের লোকজনই শিকারদের সঙ্গে কী ভাবে কথা বলতে হবে তা শিখিয়ে পড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও পুলিসের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, শিকাররা ডলারে অর্থ প্রদান করত। এজেন্টের মাধ্যমে তারা সেই ডলার টাকায় রূপান্তরিত করে নিত। ২০১৭ সাল থেকে আসানসোল বাস স্ট্যান্ডের অদূরে হটন রোডে বসে এই কারবার চালিয়ে এসেছে। সাত বছরে পুলিসের যে সন্দেহ হয়নি তা নয়। একাধিকবার পুলিস তাদের ডেরায় হানা দিয়েছে। কিন্তু তারা পুলিসকেও ঘোল খাই঩য়ে দিয়েছিল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ