Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

সংসার

সংসার
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংসারে কেন হবে না? ঠাকুর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন জনক ঋষির, রাজর্ষি জনক—তিনি রাজাও ছিলেন আবার ঋষিও ছিলেন—তিনি রাজর্ষি। তাঁর সম্বন্ধে একটা গল্প আছে—শুকদেব ব্যাসের পুত্র। তিনি ব্যাসকে বলেছিলেন—‘আমাকে ব্রহ্মজ্ঞান দিন।’ বাবা তখন বললেন,—‘আমি গৃহস্থ এবং তোমার বাবা। আমি যদি তোমাকে উপদেশ দিই হয়তো তুমি সেটা মানবে না। তুমি বরং রাজর্ষি জনকের কাছে যাও।’ তিনি রাজর্ষি জনকের কাছে গেলেন। গিয়ে তিনদিন বসেই আছেন, রাজা কোন খোঁজ-খবরও নেন না। রাজা পরীক্ষা করে দেখছেন যে, শুকদেবের জ্ঞানলাভের মতো উপযুক্ত মন তৈরি হয়েছে কিনা। সেরকমভাবে তিনি তিনদিন বসেই আছেন, তারপর ডাক পড়ল। রাজার সভাতে তখন নাচগান নানারকম চলেছে। রাজা বসে আছেন সিংহাসনে। শুকদেবকে দেখে জনক বললেন—‘আমি জানি তুমি কেন এসেছ। তা এক কাজ কর।’ একটা বাটীতে খানিকটা দুধ একেবারে পুরোপুরি ভর্তি করে—কানায় কানায় ভর্তি করে বললেন—‘এটা নিয়ে তুমি একবার আমার এই সভাগৃহটা ঘুরে এসো। কিন্তু দেখো এক ফোঁটাও যেন না পড়ে।’ শুকদেব সেটিকে হাতে নিয়ে গোটা সভা ঘুরে এলেন। তখন জনক জিজ্ঞাসা করলেন—‘দুধ পড়েছে কি?’ ‘না’। ‘কি করে হল?’ ‘না—আমি তো নাচ-গানের দিকে মন দিইনি। আমার মন সবসময় এ-দুধের উপরেই ছিল যাতে এক ফোঁটাও না পড়ে যায়।’ রাজা বললেন—‘তাহলে দেখ, আমারও এই অবস্থা। আমি যদিও রাজ-সিংহাসনে বসে আছি আমি কিন্তু কিছুর সঙ্গে লিপ্ত নই। আমার সর্বত্র সব আছে বটে, কিন্তু আবার আমার বলতে আমার কিছুই নেই। “মিথিলায়াং প্রদীপ্তায়াং ন মে দহ্যতি কিঞ্চন”—গোটা মিথিলা যদি পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাতেও আমার কিছু যায় আসে না।’ তাই ঠাকুর এক জায়গায় বলেছেন যে, ‘জনকরাজা মহাতেজা তাঁর কিসে ছিল ত্রুটি। সে যে এদিক ওদিক দুদিক রেখে খেয়েছিল দুধের বাটি।।’ কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আবার বললেন—এখন ইচ্ছা করলে সকলেই জনক ঋষি হতে পারে না। জনক ঋষিকে অনেক বছর হেঁটমুণ্ড হয়ে তপস্যা করতে হয়েছিল—তবে তিনি রাজর্ষি হতে পেরেছিলেন। আবার আর একটা গল্প আছে এরকম—পতিব্রতার গল্প। তিনি পতিসেবাকে ধর্ম বলে গ্রহণ করেছিলেন এবং তারই ফলে তিনি সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। ওদিকে একজন সাধুও অনেকদিন ধরে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। তাঁর সিদ্ধাই হয়েছিল। এক বক একটা গাছে বসে তাঁর উপরে মলত্যাগ করছিল। তিনি ক্রোধে আরক্তনয়ন হয়ে তাকালেন, অমনি বকটি ভস্ম হয়ে গেল। তাতে তিনি জানলেন—আমার বেশ সিদ্ধিলাভ হয়েছে।
স্বামী গম্ভীরানন্দের ‘কঃ পন্থাঃ’ থেকে
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ