সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: পিএইচডি করেও চাকরি হারিয়ে বিপাকে ময়নাগুড়ি শহিদগড় হাইস্কুলের রসায়নের শিক্ষক। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ সালের যে প্যানেল বাতিল হয়েছে তাতে এই স্কুল শিক্ষকের নাম রয়েছে। যদিও শহিদগড় হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক দীপক চক্রবর্তী জানিয়েছেন, মিলন দে যোগ্য শিক্ষক। তিনি নিশ্চয়ই পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে আবার ফিরে আসবেন। আমরাও সেদিকে তাকিয়ে রয়েছি।
শহিদগড় হাইস্কুলের শিক্ষক মিলনবাবু ঝাড়খণ্ড স্কুল সার্ভিস কমিশনে সেখানের একটি স্কুলে চাকরিতে জয়েন করার চিঠি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সার্ভিস কমিশনে তিনি চাকরি পান। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল দু’টি ক্ষেত্রেই জয়েন করার। যেহেতু তিনি পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডে পড়াশোনা করেছিলেন সেকারণে পশ্চিমবঙ্গে চাকরি করবেন বলেই ঠিক করে নেন। প্রথমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বীরভূমের একটি স্কুলে জয়েন করেন। পরবর্তীতে থার্ড কাউন্সেলিংয়ে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে শহিদগড় হাইস্কুলে এসে জয়েন করেন।
মিলন দে বলেন, আমার বাড়ি আরামবাগে। গ্রামে বাবার ছোট দোকান রয়েছে। সেই দোকান চালিয়ে বাবা তিন ভাইকে পড়াশোনা শিখিয়েছেন। বহু কষ্ট করে পড়াশোনা করে পিএইচডি করেছি। চাকরি চলে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছি। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা দু’জনে অসুস্থ। দু’মাসের ছেলে রয়েছে আমার। লোনের বোঝা মাথায় আছে। তারউপর চাকরি চলে গেল। তবে আবার পরীক্ষায় বসব। যোগ্য প্রার্থী আমি। পরীক্ষায় বসে পাশ করে ফের স্কুলে ফিরে আসব।
সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের স্কুলের দু’জন ইংরেজি বিষয়ের এবং দু’জন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে। আমি জোর গলায় বলছি, প্রত্যেকে যোগ্য শিক্ষক। তাঁরা আবার পরীক্ষা দিয়ে পাশ করবেন।