নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকায় ভাঙড়ের বিজেপি নেতা তথা যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অবনী মণ্ডলের ছেলে অতনু মণ্ডলের নাম থাকায় শোরগোল শুরু হয়েছে। তিনি ভাঙড় এক নম্বর ব্লকের নারায়ণপুর হাইস্কুলের (ওল্ড সাইট) বাংলার শিক্ষক ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করতে ছাড়েনি।
শনিবার রাতে এসএসসি তাদের ওয়েবসাইটে অযোগ্য শিক্ষকদের যে নামের তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ২০০ নম্বরে নাম রয়েছে অতনুবাবুর। জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে ওই স্কুলের যোগদান করেছিলেন তিনি। এসএসসি দুর্নীতি মামলায় কোর্টের রায়ে তাঁর চাকরি যায়। তবে তিনি যোগ্য না অযোগ্য সেটা এতদিনে স্পষ্ট হল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমাদের স্কুল থেকে মোট সাতজনের চাকরি গিয়েছিল। এসএসসির তালিকা প্রকাশের পর জানা গিয়েছে যে, শুধু একজনই অযোগ্য শিক্ষক রয়েছেন। তিনি অতনু মণ্ডল। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে অতনুবাবু ফোন ধরেননি। পরে ফোন বন্ধ করে দেন। তবে তাঁর বাবা বলেন, কী করে এই তালিকায় ছেলের নাম এসেছে জানি না। নিজের যোগ্যতায় পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এই চাকরি পেয়েছিল ও। ওএমআর শিটে কোনও কারচুপি হয়নি বলেই আমার বিশ্বাস। অন্য কারও সঙ্গে কোনওরকম লেনদেনও হয়নি। তালিকায় নাম আসা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হব। চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকে ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তাই কারও সঙ্গে কথা বলছে না। একের পর এক তৃণমূলের লোকজনের নাম তালিকায় পাওয়া যেতেই বিরোধীরা সুর চড়িয়েছিল। কিন্তু খোদ বিজেপির নেতার ছেলের নাম সেই তালিকায় থাকায় তীব্র আক্রমণ করেছেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। তিনি বলেন, যারা কথায় কথায় তৃণমূলের নেতাদের উপর আঙুল তোলে, তারা নিজেরা একবার আয়নায় মুখ দেখুক।



