Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরস্বতী পুজোয় তমলুকের কালার্স ক্লাবের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসর

সরস্বতী পুজোয় তমলুকের কালার্স ক্লাবের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসর
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ভারতীয় প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য। বৈদিক যুগ থেকেই এর চর্চা চলে আসছে। পরিতাপের বিষয় হল, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এককভাবে পরিবেশনকারী যন্ত্রসমূহ সরোজ, সেতার, বীণা আজকের প্রজন্ম ভুলতে বসছে। পরিবর্তে জায়গা নিয়েছে ডিজে। তারসঙ্গে উদ্দাম নৃত্য। সাংস্কৃতিক জগতে এই অবক্ষয় রোধে অভিনব উদ্যোগ নিল তমলুক শহরের শঙ্করআড়া কালার্স ক্লাব। সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে বিহারের মোজাফ্ফরপুর থেকে পাঁচজন সানাইশিল্পীকে আনা হয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে তিনদিন শুধুই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বাজবে। যোগ্য সঙ্গত দেবে বাঁকুড়া থেকে আসা লোকগানের একটি নামী দল। ক্লাবের এই উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন। পুজো কমিটির সম্পাদক অনুতোষ প্রধান বলেন, উস্তাদ বিসমিল্লা খান, উস্তাদ জাকির হোসেনরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নক্ষত্র। তাঁরা পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অথচ, আজকের প্রজন্মের অনেকেই তাঁদের নাম জানেন না। এবার পুজোয় আমরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে গুরুত্ব দিয়েছি। 
Advertisement
শঙ্করআড়া বাজার সংলগ্ন মেচেদা-হলদিয়া রাজ্য সড়কের ধারে কার্লাস ক্লাব। গত ১৪ বছর ধরে তারা সাড়ম্বরে সরস্বতী পুজো করছে। এবার পুজোর বাজেট ১৫ লক্ষ টাকা। গ্রামীণ পটচিত্রের আদলে সুদৃশ্য মণ্ডপ দেখে দাঁড়িয়ে পড়ছেন পথচলতি মানুষজন। সঙ্গে এলইডি লাইটে গোটা এলাকা ঝলমল করছে। শনিবার সন্ধ্যায় উদ্বোধনী মঞ্চে সানাইয়ের সুরে অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হয়। তারমধ্যেই উদ্বোধন হয় পুজোর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তমলুকের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, বিধায়ক সুকুমার দে ও তিলক চক্রবর্তী, কলকাতা থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন দুলাল সেন। এছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলার গৌতম পাল ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিনব ভাবনাকে তাঁরা কুর্নিশ জানান।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে সেরা সঙ্গীতশিল্পীদের বাছাই করতে অডিশন নিয়েছিল। বিভিন্ন জেলার মোট ১০৭ জন সঙ্গীতশিল্পী তাতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জনকে মূল প্রতিযোগিতার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। আজ, রবিবার ওই ৩৪ জন শিল্পীকে নিয়ে ক্লাবের অনুষ্ঠান মঞ্চে বসবে প্রতিযোগিতার আসর। বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী কৃষ্ণদাস বৈরাগ্য বিচারক হিসেবে উপস্থিত হবেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানাধিকারীকে ২৫ হাজার, দ্বিতীয় স্থানাধিকারীকে ১৫ হাজার এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। সেরা ১৫জন শিল্পীকে নিয়ে সোমবারও মঞ্চে অনুষ্ঠান হবে। জেলায় জেলায় ছড়িয়ে থাকা সঙ্গীত শিল্পীদের উৎসাহ দিতে এই ভাবনা। আগামী দিনে পুরস্কার মূল্য আরও বাড়িয়ে প্রতিযোগিতাকে আকর্ষণীয় করা হবে বলে ক্লাব সম্পাদক তমাল অধিকারী ও কর্ণধার সুদীপ্ত পণ্ডা জানিয়েছেন।
বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র বলেন, কালার্স ক্লাবের ভাবনা অভিনব এবং অন্যদের জন্য অনুকরণযোগ্য।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ