Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বরানগরের কালী মন্দিরে শ্রীরামকৃষ্ণ

বরানগরের কালী মন্দিরে শ্রীরামকৃষ্ণ
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

 ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের বরানগর আসার কথা বহু ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর পদার্পণে বরানগরের কিছু মানুষের বাসগৃহ ধন্য হয়েছে। আবার বরানগরের বেশ কিছু মানুষ তাঁর সঙ্গ লাভ করে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁর পা পড়েছিল বরানগরে বিভিন্ন মঠ মন্দিরেও। সেই তালিকায় রয়েছে পাঠবাড়ি আশ্রম, জয় মিত্র কালীবাড়ি, প্রামাণিক কালীবাড়ি প্রভৃতি। আবার দক্ষিণেশ্বর থেকে বরানগরে আসা-যাওয়ার পথে বিভিন্ন মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রণাম করার উল্লেখও রয়েছে বিভিন্ন গবেষণামূলক গ্রন্থে। বরানগর বাজারের কাছে অবস্থিত প্রাচীন কালী মন্দিরটি এমনই একটি মন্দির। প্রখ্যাত রামকৃষ্ণ গবেষক নির্মল কুমার রায় রচিত ‘চরণ চিহ্ন ধরে’ বইতে বরানগর বাজারের কাছে অবস্থিত এই মন্দিরটির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বরানগর বাজারের কাছে কালী মন্দিরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের শুভাগমন সম্পর্কে এরূপ উল্লেখ পাওয়া যায়—তখনকার দিনে সামান্য কয়েকটি পয়সা খরচ করিয়া শেয়ারের গাড়িতে বিডন স্কোয়ার হইতে বরাহনগর বাজারে আসা হইত। কাছেই রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে  ফাগুর প্রসিদ্ধ খাবারের দোকান। শুনা যায়, শ্রীশ্রীঠাকুর ফাগুর দোকানের কচুরি ভালবাসিতেন। এই দোকানখানি কাশীনাথ দত্ত ও গোপাল ঠাকুর রোডের মোড়ে যে কালীঠাকুর আছেন, সেই কালীঘরের উত্তর পার্শ্বেই ছিল। এখন সেখানে কয়েকখানি মনোহারী দোকান এবং একটি তেলে ভাজা খাবারের দোকান (মুখরুচি) রহিয়াছে।’ ওই গ্রন্থে নির্মলবাবু আরও লিখেছেন, ‘শ্রীশ্রীঠাকুর ওই পথে গাড়ি করিয়া যাইতে অন্যান্য সঙ্গীদিগকে শ্রীশ্রীকালীমাতাকে প্রণাম করিতে বলিতেন এবং নিজেও প্রণাম করিতেন।’ তাঁর লেখায় উল্লেখ রয়েছে, ‘এই মন্দিরটি যদিও খুব ছোট কিন্তু বিগ্রহটি বেশ বড়। দেবীর নাম সিদ্ধেশ্বরী। মন্দির এবং মূর্তি দক্ষিণমুখী।’ বরানগর বাজারের উত্তরাংশে কাশীপুর রোড, গোপাললাল ঠাকুর রোড ও কাশীনাথ দত্ত রোডের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই মন্দিরটির কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছে। ওই মন্দিরে মা সিদ্ধেশ্বরীর মূর্তি ছাড়াও অন্যান্য একাধিক দেবদেবীর মূর্তি অধিষ্ঠিত রয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে আসেন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ