


অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: গুড়াপের মুক্তকেশী তলায় মুখার্জি বাড়ির দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে অঞ্জলি দিয়েছিলেন মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য। এই এলাকার পুরনো পুজোগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। পদব্রজে ঘুরছেন চৈতন্যদেব। অষ্টমীতে অঞ্জলি দেন হুগলির গুড়াপের মুখার্জি বাড়ির দুর্গাপুজোতে। এই পুজোকে বুড়ি মা’র পুজো বলা হয়। যাওয়ার সময় খড়ম জোড়া রেখে যান চৈতন্য। তারপর কয়েকশো বছর বাদে খড়ম সংরক্ষণ করে রাখা হয়। নিত্যপুজোর ব্যবস্থা হয়। তবে সেই খড়ম জোড়ার আর এখন কোনও অস্তিত্ব নেই।
বিদ্যাসাগর মহাশয়ের আত্মীয় রামেন্দুসুন্দর তর্কালঙ্কার সহ আরও দু’জন এই এলাকার সাধক ছিলেন। ধর্মপ্রাণ বর্ধমান রাজার অধীনে হুগলির গুড়াপের মুক্তকেশীতলা এলাকায় দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়েছিল। তবে কেন বুড়িমার পুজো বলা হয় তা কারও জানা নেই। পরিবারের সদস্য সুভাষ চট্টোপাধ্যায় জানান, সেই সময় দুর্গাপুজোর এই বারোয়ারি চেহারা ছিল না। পরিবারগুলিতেই পুজো হতো। পদব্রজে বেরিয়ে মহাপ্রভু অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দিয়েছিলেন এখানে। পাশে গোপাল ঠাকুরের মন্দিরে রেখে গিয়েছিলেন তাঁর খড়ম জোড়া। এখানে পুজোর বিশেষত্ব হলো গণেশের দিকে থাকেন সরস্বতী। লক্ষ্মী থাকেন কার্তিকের দিকে। এই পরিবার গুরু পরিবার। আর নাগরা ছিল শিষ্য পরিবার। আজও পুরনো রীতি মেনে প্রতিমা বিসর্জন হয়। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে মাছ রান্না করে ভোগ নিবেদনের রীতি। আগে অষ্টমীর পুজোতে বর্ধমানের রাজবাড়ি থেকে তোপধ্বনির পর পুজো আরম্ভ হতো। ওড়ানো হতো নীলকণ্ঠ পাখি।
কথিত, দুর্গার দর্শন পেয়েছিলেন মুখার্জি পরিবারের গৃহবধূ। পুজোর কোনও এক দিন ভোগ নিবেদন করা হলেও মুখশুদ্ধি অর্থাৎ পান দিতে ভুলে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সেই সময় এক সাঁওতালি মহিলা বাড়িতে আসেন। ভোগ খাওয়ার আবেদন করেন। পুজোয় যে সমস্ত ভোগ নিবেদন করা হয়েছিল তা সবই দেওয়া হয় ওই রমণীকে। তিনি সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে ভোগের সুখ্যাতি করেন। বলেন মুখশুদ্ধি পেলাম না। তা আনতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন দেবীকেও মুখশুদ্ধি দেওয়া হয়নি। এরপর ওই সাঁওতালি রমণীর দেখা পাননি কেউ। এলাকার জমিদার ছিল এই পরিবার। তাই সে সময় আয়োজন ছিল বিশাল। বর্তমানেও হচ্ছে পুজোর আয়োজন।