নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কিরণশঙ্কর রায় রোডে নগর দেওয়ানি আদালতের বাইরে চায়ের দোকান সবে খুলেছে। কোর্ট চত্বর সাফসুতরো করছেন দুই সাফাইকর্মী। এমন সময় শোনা গেল গুলির শব্দ! দৌড়ে গেলেন সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিসকর্মী। গিয়ে যা দেখলেন, তাতে তাঁর শিরদাঁড়া দিয়ে যেন ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল! এক বিচারকের দেহরক্ষীর নিথর দেহ এলিয়ে রয়েছে প্লাস্টিকের চেয়ারে। কপালের ঠিক মাঝখানে গুলির গভীর ক্ষত। মাটিতে পড়ে রয়েছে তাঁর ৯ এমএম সার্ভিস পিস্তল। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। বুলেটের পোড়া বারুদে কালো হয়ে গিয়েছে কপালের ক্ষতস্থান। নাক, মুখ দিয়ে তখনও রক্ত বেরচ্ছে। পাশের একটি কাঠের চেয়ারে পড়ে রয়েছে সেই দেহরক্ষীর রুমাল, চশমা, মানিব্যাগ আর মোবাইল ফোন।
Advertisement
মহাকরণ থেকে শুরু করে পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের অফিস চত্বর, খাদ্যভবনের পর এবার নগর দেওয়ানি আদালত চত্বর। ফের ঘটল সার্ভিস পিস্তল থেকে গুলি চালিয়ে উর্দিধারীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা। সেই সূত্রে আরও একবার প্রশ্ন উঠে গেল কলকাতা পুলিসের কনস্টেবলদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। কোন অবসাদের শিকার হয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন তাঁরা, তা ভাবাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলকে।
পুলিস সূত্রে খবর, এদিন সকাল ৭টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম গোপালকুমার নাথ। মালদহের বাসিন্দা গোপালবাবু কলকাতা পুলিসের স্পেশাল ব্রাঞ্চে পোস্টিং পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি নগর দেওয়ানি আদালতের বিচারক চন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই সূত্রে প্রতিদিনই সকালে আদালতে আসতে হতো তাঁকে। অন্যান্য বিচারকের দেহরক্ষীও আসতেন সেখানে। চায়ের আড্ডা জমত কোর্ট চত্বরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। আদালত সূত্রে খবর, এদিন সকালে গোপালবাবু বেশ কিছুটা আগেই পৌঁছে যান সেখানে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিজের সব সামগ্রী একপাশে রেখে কপালে গুলি চালান তিনি। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে আসে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিস। লালবাজারের হোমিসাইড শাখা, সায়েন্টিফিক শাখার আধিকারিক ছাড়াও পুলিস-কুকুর, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা আসেন সেখানে। ডেপুটি কমিশনার (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় চলে আসেন। কনস্টেবলের সার্ভিস পিস্তলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে প্রাথমিক ইঙ্গিত, বুলেট যেভাবে মাথার খুলির পিছন দিক ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছে, তাতে এই ঘটনা আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। লালবাজার সূত্রে খবর, পুলিস কার্যত নিশ্চিত যে আত্মহত্যার পরিকল্পনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন গোপালবাবু? সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই কারণে তুমুল পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়েছিল। এর আগেও তিনি একবার আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সেই তথ্য আগে থেকেই থাকায় পুলিসের কি আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল না? উঠছে সেই প্রশ্ন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাতে খাদ্যভবনের ভিতরে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন এক কনস্টেবল। তারপর বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নড়েচড়ে বসেছিল লালবাজার। সেই প্রচেষ্টা যে আদতে তেমন কোনও কাজ দেয়নি, এদিন আদালত চত্বরের ঘটনায় তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকে।
পুলিস সূত্রে খবর, এদিন সকাল ৭টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম গোপালকুমার নাথ। মালদহের বাসিন্দা গোপালবাবু কলকাতা পুলিসের স্পেশাল ব্রাঞ্চে পোস্টিং পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি নগর দেওয়ানি আদালতের বিচারক চন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই সূত্রে প্রতিদিনই সকালে আদালতে আসতে হতো তাঁকে। অন্যান্য বিচারকের দেহরক্ষীও আসতেন সেখানে। চায়ের আড্ডা জমত কোর্ট চত্বরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। আদালত সূত্রে খবর, এদিন সকালে গোপালবাবু বেশ কিছুটা আগেই পৌঁছে যান সেখানে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিজের সব সামগ্রী একপাশে রেখে কপালে গুলি চালান তিনি। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে আসে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিস। লালবাজারের হোমিসাইড শাখা, সায়েন্টিফিক শাখার আধিকারিক ছাড়াও পুলিস-কুকুর, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা আসেন সেখানে। ডেপুটি কমিশনার (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় চলে আসেন। কনস্টেবলের সার্ভিস পিস্তলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে প্রাথমিক ইঙ্গিত, বুলেট যেভাবে মাথার খুলির পিছন দিক ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছে, তাতে এই ঘটনা আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। লালবাজার সূত্রে খবর, পুলিস কার্যত নিশ্চিত যে আত্মহত্যার পরিকল্পনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন গোপালবাবু? সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই কারণে তুমুল পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়েছিল। এর আগেও তিনি একবার আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সেই তথ্য আগে থেকেই থাকায় পুলিসের কি আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল না? উঠছে সেই প্রশ্ন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাতে খাদ্যভবনের ভিতরে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন এক কনস্টেবল। তারপর বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নড়েচড়ে বসেছিল লালবাজার। সেই প্রচেষ্টা যে আদতে তেমন কোনও কাজ দেয়নি, এদিন আদালত চত্বরের ঘটনায় তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকে।



