নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আপনি কি শিয়ালদহ ডিভিশনের যাত্রী? কাজের প্রয়োজনে দেশের ব্যস্ততম এই ডিভিশনের অন্তর্গত ২০৪টি স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে সতর্ক হয়ে যান। কেন না, ডিভিশনের সমস্ত স্টেশনে সতর্ক প্রহরায় রয়েছেন রেলকর্মীরা। ট্রেন কিংবা স্টেশনে থুতু ফেললেই আর্থিক জরিমানা। সে জরিমানার রশিদ তৎক্ষণাৎ পাবেন অভিযুক্ত।’ এই কড়া সতর্কবার্তা এক রেল আধিকারিকের। জানা গিয়েছে, স্টেশনের স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনজুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় থুতু ফেলার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।
রেলের বক্তব্য, এক শ্রেণির যাত্রীর থুতু-পান, গুটখার পিক ফেলার বদভ্যাসের খেসারত চোকাতে হচ্ছে অন্যদের। এর বিরুদ্ধে শিয়ালদহ ডিভিশন টিকিট পরীক্ষকদের (টিটিই) বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছে। থুতু ফেললেই অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে রেলওয়ে রুলস ২০১২ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার নির্দেশ। এপ্রিলে শিয়ালদহ ডিভিশনে সব মিলিয়ে ছ’হাজার ১৯৩টি থুতু ফেলার ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরার পর জরিমানা বাবদ রেলের কোষাগারে ঢুকেছে ৭ লক্ষ ৬১ হাজার।
দৈনিক যাত্রী পরিষেবার নিরিখে জাতীয় পর্যায়ে উপরের দিকে রয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। রোজ প্রায় ১৮ লক্ষ যাত্রী এই ডিভিশনে চলাচল করেন। শিয়ালদহ মেইন, সাউথ ও নর্থ মিলিয়ে রয়েছে ২০৪টি স্টেশন। রোজ এক হাজার ৩২টি লোকাল ট্রেন পরিষেবা দেয় রেল। স্টেশনে অবৈধ যাত্রী ধরতে ডিভিশনে ৩৪৫ জন টিকিট পরীক্ষক রয়েছেন। বর্তমানে স্টেশন সাফ রাখতে টিকিট চেক করার পাশাপাশি পরীক্ষকদের দেওয়া হয়েছে বাড়তি দায়িত্ব। তাঁরা সর্বদা কড়া নজর রাখছেন। কেউ থুতু ফেললেই তাঁকে পাকড়াও করে তৎক্ষণাৎ ফাইন করছেন। শিয়ালদহের ডিভিশনার রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) রাজীব সাক্সেনা বলেন, ‘এক মাসে বিরাট পরিমাণ থুতু ফেলার ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতন করতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। কেন না সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ তিনি জানান, শিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে, রেলের এলাকা পরিষ্কার রাখার কর্তব্য যাত্রীদেরও। তাঁদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চায় রেল। যাত্রীদের কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে ট্রেন সফর নিশ্চিত করতে থুতু ফেলা থেকে বিরত থাকার আর্জিও জানানো হয়েছে।