অধ্যাত্ম জীবন তো সবার জন্য। সুতরাং নিজের কর্তব্য করে যাও এবং প্রভুর নাম নিতে থাকো। কারো কথা নিয়ে বিচলিত হয়ো না। তোমার স্বামী সন্তানকে ওদের মতো চলতে দাও, বাধা দিও না। ওদের কথাবার্তাগুলো নিয়ে তুমি কষ্ট পেও না। শুধু প্রভুর নাম জপ করো, ওনার উপর নির্ভর করো, উনিই একমাত্র রক্ষাকর্তা।
শ্রীভগবান যেমন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই অর্জুনকে গীতার উপদেশ দেন এবং ওনার সারথী রূপে ওনাকে রক্ষা ও চালনা করে বিজয়ী করেছিলেন, ঠিক তেমনি করে নিজের সম্বন্ধেও ভাববে। মাতৃগর্ভাবস্থাতেই তুমি শ্রীশ্রীভগবানের অমৃতময় বাণী শুনতে পেয়েছিলে, জন্মলগ্ন থেকে ঈশ্বর তোমার জীবন রথের সূত্র নিজের হাতে চালনা করে সদা সর্বদা তোমায় রক্ষা করেছেন। এই রথের অর্থ হল তোমার ইচ্ছাশক্তি। এটা ভেবে দেখবে, ঈশ্বর বুঝেছিলেন তোমার দীক্ষা নেওয়ার তীব্র ইচ্ছা হয়েছে, তাই তার ফল স্বরূপ তুমি স্বামী গহনানন্দকে পেলে। এখন শুধু এই অনুভব করতে হবে যে প্রভুই তোমার মনোরথকে পরিচালনা করে তোমাকে রক্ষা করছেন। সংসারে যদি সমস্যা না থাকত, তাহলে মানুষ ঈশ্বরমুখী কখনই হতো না। সংসারে সুখ দুঃখ ক্রমান্বয়ে আসে, জ্ঞানী তার জ্ঞানের অসিতে তাকে কেটে কেটে চলে কিন্তু মূর্খ কেবল কেঁদে ভাসায়।
নদীতে যে নেমেছে তার সাঁতার শেখার প্রয়োজন হয় না। তুমি মানসিকভাবে নিজেকে শ্রীশ্রীঠাকুর এবং শ্রীশ্রীমায়ের কাছে সম্পূর্ণ করে দিয়েছো, তুমি ওনাদের সম্পূর্ণ হয়ে গেছো। শুধু এখন এই কথাটির বিশ্বাস ও বোধগম্য হতে তোমার একটু বাকি আছে। বিবাহের পর মেয়েরা পরের বাড়িতে কত অল্প সময়ে তাদের সমস্ত কিছু আপন করে নিতে পারে, আর এখানে তো তুমি পরের বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি এসে গেছো।
যখনই প্রভুর কথা মনে আসবে, শ্রীশ্রীঠাকুর শ্রীশ্রী মায়ের ছবির দিকে দেখে তখনই ইষ্টনাম জপ শুরু করবে, সংখ্যা রাখার প্রয়োজন নেই। এইভাবে তোমার মন দিন দিন শুদ্ধ হয়ে তোমার আধ্যাত্মিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। উপাসনা পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী নিশ্চয় তুমি জপধ্যান করে যাচ্ছো, এছাড়াও অন্য সময়ে মনে মনে অবিরাম ইষ্টমন্ত্রের জপ করার অভ্যাস করো। সঙ্গে সঙ্গে এটাও নজর রাখো কীভাবে তোমার মন জপ করা ছেড়ে অন্য চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু তাকে বাধা দিও না, সে যা চায় ভাবতে দাও, শুধু নজর রাখো—যে সে কী ধরনের চিন্তাভাবনা করছে, তারপর দেখো সে কীভাবে জপ করতে বসে পড়বে, মুহূর্তের জন্য সে বিপথে যাবে, কিন্তু পরমুহূর্তেই সে ফিরে এসে জপে বসে থাকবে। এইভাবে তুমি মনের স্বভাবের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকবে। একবার যখন মনের ভালো দিক এবং মন্দ দিক বুঝতে পারবে, তখন তোমার কামনা, বাসনা, ইচ্ছা, আকঙ্ক্ষা—সব কিছু তোমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু এটাও বুঝতে পারবে কী কী জিনিসের উপর তোমার ঘৃণা, কোন্ কোন্ কথায় তুমি রাগ করো, কিসে খুশি হও, কোন্ কথায় তুমি দুর্বল হয়ে পড়ো।
‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে