Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিটে ৮০০ নম্বরে মাত্র ৪ পেয়েই স্পেশালিস্ট! ডাক্তারিতেও কাঠগড়ায় মোদির শিক্ষানীতি

নিট পিজির ফল বেরনোর পর কাউন্সেলিং হতেই দেখা যাচ্ছে, ‘পিকচার’ এখনও বাকি! এখানে পূর্ণমান ৮০০’য় মাত্র ৪ পেয়েই স্পেশালিস্ট ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন পড়ুয়া। ফিজিওলজি নিয়ে পড়তে গিয়েছেন ‘মাইনাস ১২’ পেয়েও!

নিটে ৮০০ নম্বরে মাত্র ৪ পেয়েই স্পেশালিস্ট! ডাক্তারিতেও কাঠগড়ায় মোদির শিক্ষানীতি
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বছর ১৫ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে নম্বর পেয়েই নিট ইউজি ‘উত্তীর্ণ’ হয়েছিলেন প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ পরীক্ষার্থী। দরজা খুলে গিয়েছিল এমবিবিএস-এর মতো কঠিন পড়াশোনার। ৭২০ নম্বরের সেই পরীক্ষায় অসংরক্ষিতদের জন্য কাট অফ মার্কস ছিল ১৪৪ বা ২০ শতাংশ। মোদি জমানায় নিটের মতো পরীক্ষার হাল-হকিকত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিস্তর। কিন্তু ওটাই ক্লাইম্যাক্স ছিল না। নিট পিজির ফল বেরনোর পর কাউন্সেলিং হতেই দেখা যাচ্ছে, ‘পিকচার’ এখনও বাকি! এখানে পূর্ণমান ৮০০’য় মাত্র ৪ পেয়েই স্পেশালিস্ট ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন পড়ুয়া। ফিজিওলজি নিয়ে পড়তে গিয়েছেন ‘মাইনাস ১২’ পেয়েও!

Advertisement

দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলির একটি নিট পিজি। পরীক্ষা শেষে স্রেফ আসন ভরাতে ৮০০-তে ৪ পাওয়া পরীক্ষার্থীকেও হাড়ের ডাক্তার হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে মোদি সরকার! রোহতকের পিবিডিএস পিজিআইএসএস মেডিকেল কলেজে অর্থোপেডিকস বিভাগে এমএস করবার সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন ওই পরীক্ষার্থী। ৮০০-তে ৪০ পেয়ে এমডি জেনারেল মেডিসিন পড়ছেন আরও এক। তামিলনাড়ুর একটি  মেডিক্যাল কলেজে আসন নিশ্চিত করেছেন তিনি। মোদি জমানার সৌজন্যে এঁদের ‘ভাগ্যবান’ বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ডাক্তারিতে বরাবর যে বিষয়গুলি বেশি গুরুত্ব পেয়ে এসেছে, সেগুলি হল—মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, অর্থো, পেডিয়াট্রিকস। নজর করার বিষয়, সর্বনিম্ন নম্বর এই পরীক্ষায় শূন্য নয়! তার নীচে নম্বর পেয়েও ডাক্তারি পড়ার সুযোগ মিলছে। আর ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, প্রবেশিকাতেই যারা মাইনাসে যাচ্ছে, তাদের কাছে ভবিষ্যতে চিকিৎসা করাতে যাব কীভাবে?
আসলে সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে মোদি সরকারের ১৩ জানুয়ারির এক অতি বিতর্কিত নির্দেশ। সেখানে নিট পিজিতে ভর্তির কাট অফ এক ধাক্কায় কমিয়ে আনা হয়। অসংরক্ষিতদের জন্য কাট অফ ছিল ৫০ পার্সেন্টাইল বা ২৭৬ নম্বর। সেটাই কমে হয় ৭ পার্সেন্টাইল বা ১০৩। এসসি, এসটি ও অন্যান্য সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য কাট অফ আরও কম। শূন্য পার্সেনটাইল বা মাইনাস ৪০! 
সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠন ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্টের চেয়ারপার্সন ডাঃ লক্ষ্য মিত্তল বলেন, ‘সর্বভারতীয় কাউন্সেলিংয়েই এই অবস্থা। এরপর রাজ্যে রাজ্যে কাউন্সেলিং বাকি। আরও বেহাল দশা বেআব্রু হবে তখন।’ কী বলছেন তরুণ চিকিৎসকরা? কলকাতা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের তৃতীয় বর্ষের পিজিটি ডাঃ পৃথ্বীশ সরকার বলেন, ‘আসলে এর নেপথ্যে রয়েছে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ লবি। কাট অফ না কমালে তাদের আসন ভরবে কীভাবে? পরিস্থিতি যা হচ্ছে, কয়েক বছর পর ডাক্তার দেখাতে গিয়ে বুঝতে পারবেন প্রভাবশালীরাই!’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ