Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বর্ষার আগেই শহরের জঞ্জাল, নিকাশির সমাধানে বিশেষ বৈঠক হাওড়া পুরসভায়

বর্ষার আগে হাওড়া পুরসভায় নিকাশি ও আবর্জনা সমস্যার সমাধানে বৈঠক। নতুন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত জানুন।

বর্ষার আগেই শহরের জঞ্জাল, নিকাশির  সমাধানে বিশেষ বৈঠক হাওড়া পুরসভায়
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বর্ষার আগে নিকাশি ও আবর্জনা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জোর দিতে নতুন পুর কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল হাওড়া পুরসভায়। মঙ্গলবার হাওড়া পুরসভার কমিশনার পদে দায়িত্ব নিলেন তেজস্বী রানা। এতদিন তিনি উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) পদে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরই জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক তথা হাওড়া পুরসভার প্রশাসক পি দীপাপ প্রিয়া, উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং। মূলত বর্ষার আগে হাওড়া ও বালি এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা, আবর্জনা অপসারণ এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়।

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই আধিকারিক ও কর্মীর অভাব হাওড়া পুরসভার অন্যতম সমস্যা ছিল। ফলে নাগরিক পরিষেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হচ্ছিল। সেই ঘাটতি অনেকটাই মেটানো গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কেএমডিএ’র ৯ জন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে হাওড়া পুরসভায় পাঠানো হয়েছে। পুর কমিশনারের পাশাপাশি জয়েন্ট কমিশনার পদেও নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। পুরসভার দাবি, পূর্ববর্তী শাসকদলের মদত ও প্রশ্রয়ে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ১,২০০ জন অস্থায়ী সাফাই কর্মীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জন খাতায়-কলমে কর্মরত থাকলেও বাস্তবে তাঁরা কোনো কাজ করতেন না। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কর্মীদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের সরিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এদিনের বৈঠকে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেএমডিএ ইতিমধ্যেই হাওড়া পুরসভাকে চারটি বড়ো জেট-কাম-সাকশন মেশিন দিয়েছে। পুরানো যন্ত্রগুলিও মেরামত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই কেএমডিএ ও পুরসভার যৌথ উদ্যোগে শহরের সমস্ত নিকাশিনালা পরিষ্কারের কাজ শুরু হবে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে খারাপ রাস্তা সংস্কারের কাজও চলবে।
মন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, শহরকে আবর্জনামুক্ত করতে পরিকল্পিত সাফাই অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিটিসি ভ্যানে শুকনো ও ভিজে আবর্জনা পৃথকভাবে সংগ্রহ করা হবে। বড়ো রাস্তার ধারের ভ্যাটগুলি ধাপে ধাপে তুলে দিয়ে সেখানে আপাতত সেকেন্ডারি কালেকশন পয়েন্ট হিসাবে ট্রিপার ট্রাক রাখা হবে। সেখান থেকে সরাসরি ধাপা ও বৈদ্যবাটির ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আবর্জনা পাঠানো হবে। বাজার এলাকাগুলিতে রাতেও আবর্জনা সংগ্রহ চলবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ট্রিপার ট্রাকের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালু করা হলেও আগামী দিনে প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক ভ্রাম্যমাণ কম্প্যাক্টর বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারণের কাজ আরও দ্রুত করা যায়। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং রুখতে হাওড়া পুরসভা ও হাওড়া সিটি পুলিশ যৌথভাবে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ