নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একে সংকীর্ণ রাস্তা। তার ধারে আবর্জনা জমতে জমতে তৈরি হয়েছে পাহাড়। কোথাও ভ্যাট থেকে জঞ্জাল গড়িয়ে এসে মিশেছে নর্দমায়। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এমন ‘আনরেজিস্টার্ড ভ্যাটের’ সংখ্যা কত, তার হিসেব নেই বালি পুরসভার কাছে। এদিকে, জঞ্জাল সাফাই হয় না বলে শহরবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বকেয়া মেটানো নিয়েও পুরসভা ও বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির মধ্যে চলে আসছে দড়ি টানাটানি। সমস্ত জটিলতা মিটিয়ে অবশেষে বালিতে জঞ্জাল সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে পুরসভা। উৎসব মরশুমের আগেই শহরের প্রতিটি ভ্যাট নিয়মিত পরিষ্কারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্য প্রশাসক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায়।
বালি পুরসভার অধীনে মোট ১১টি ভ্যাট রয়েছে। এর মধ্যে ছ’টি রয়েছে বেলুড়ে ও বাকি পাঁচটি রয়েছে লিলুয়া এলাকায়। অথচ গত কয়েক বছরে শহর জুড়ে যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় ভ্যাট। দীর্ঘদিন ধরে সেই ভ্যাটগুলিতে আবর্জনা ফেলে আসছেন বাসিন্দারা। বালি পুরসভা এলাকায় মোট চারটি ঠিকা সংস্থা জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মেটানো নিয়ে পুরসভার সঙ্গে ওই সংস্থাগুলির বিবাদ চলছে। সাফাইকর্মীরা কাজ বন্ধের হুমকি দিয়ে একাধিকবার বিক্ষোভেও নেমেছেন। অথচ কোনও আলোচনাতেই রফাসূত্র বের হয়নি। ফলশ্রুতিতে শহর জুড়ে সাফাইয়ের কাজ প্রায় হয় না বললেই চলে। বালি পুরসভার কমবেশি প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তা পরিণত হয়েছে আস্তাকুঁড়ে। চলতি বর্ষায় বেহাল নিকাশি নিয়ে জল যন্ত্রণায় ভুগেছেন বাসিন্দারা। যাবতীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যা মিটিয়ে পুজোর আগেই জঞ্জালমুক্ত শহর গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বালি পুরসভা।
মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর শহরের জঞ্জাল সমস্যা নিয়ে পুরসভার একাধিক দপ্তর ও ঠিকা সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন রানা চট্টোপাধ্যায়। বকেয়া সমস্যা মেটানোর দ্রুত আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মুখ্য প্রশাসক বলেন, ‘উৎসবের মরশুমে বালিতে জঞ্জাল নিয়ে কোনও সমস্যা থাকবে না। বকেয়া মেটানো নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত তহবিলে অর্থ না থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর বাবদ পুরসভার যে আয় হয়, তা দিয়েই বকেয়া মেটানোর চেষ্টা করা হবে।
পুরসভা জানিয়েছে, বালি, বেলুড় ও লিলুয়া এলাকায় প্রতিটি ভ্যাট নিয়মিত পরিষ্কার করা হবে। প্রতি সাতদিন অন্তর শহরের জঞ্জাল সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে রিভিউ মিটিং করবেন মুখ্য প্রশাসক। বুধবার থেকেই শহরে স্পেশাল ড্রাইভ শুরু হয়। বেলুড়ে লালবাবা কলেজের সামনে গত কয়েক মাস ধরে আবর্জনা জমতে জমতে পাহাড় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পড়ুয়ারা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। অভিযোগ, পুরসভায় বহুবার জানানোর পরেও প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে সেই জঞ্জাল সাফাই হয়নি এতদিন। এদিন সকালে মুখ্য প্রশাসকের উপস্থিতিতে জায়গাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়। সেখানে যাতে ফের ভ্যাট গজিয়ে না ওঠে, সেজন্য সৌন্দর্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে পুরসভা। লালবাবা কলেজের পড়ুয়া ঋতম চক্রবর্তী ও শ্রীলেখা সরকার বলেন, ‘এতদিন ভ্যাট থেকে গড়িয়ে পড়া নোংরা পেরিয়ে কলেজে ঢুকতে হতো। দুর্গন্ধে টেকা যেত না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, এখানে আর আবর্জনা যেন না ফেলা হয়।’