স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মেডিকেলে শুরু বিশেষ সাফাই অভিযান
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার সামগ্রিক মান উন্নয়নে এবার হাসপাতাল চত্বর সাফসুতরো রাখার উপরে বিশেষ জোর দিল স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুরু হয়েছে বিশেষ সাফাই অভিযান। হাসপাতাল সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টা সাফাইয়ের কাজে কর্মীদের নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

তবে এই উদ্যোগের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, শুধু হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার রাখলেই কি চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়বে? রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং তাঁদের ডিউটি পালনের উপর নজরদারিও কি সমান জরুরি নয়?
হাসপাতালের সাফাই কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, তাঁরা যথাযথ বোনাস পান না পুজোর সময়। তাঁদের সামান্য বেতনে কাজ করতে হয়। অনেকের মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকারও কম। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে স্বল্প বেতনে কাজ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য বাড়তি চাপও রয়েছে।
অন্যদিকে, সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে ডিউটির সময় বেসরকারি প্র্যাকটিস করার এবং নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও উঠেছে। যদিও চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
রাজ্যে পালাবদলের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিষেবা উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য হাসপাতাল এখনও তাঁরা সরেজমিনে পরিদর্শনের অপেক্ষায় বলে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের বক্তব্য।
এদিকে, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরও পদক্ষেপ করছে বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর। তাঁর বক্তব্য, সর্বশেষ ভিডিয়ো কনফারেন্সে চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত থাকা নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র চিকিৎসকদের পাশাপাশি জুনিয়র চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করা হচ্ছে। সেই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও এসে গিয়েছে।
হাসপাতাল সুপারের বক্তব্য, চিকিৎসকদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। সামগ্রিকভাবে চিকিৎসা পরিষেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্যদপ্তর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করছে।