নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির হদিশ পেতে এবার স্পেশাল অডিটের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, রাজ্যের ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত ছাড়াও পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের লেনদেন চলে এসেছে আতশকাচের নীচে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির হদিশ পেতে এবার স্পেশাল অডিটের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, রাজ্যের ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত ছাড়াও পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের লেনদেন চলে এসেছে আতশকাচের নীচে।
১০০ দিনের কাজসহ গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল আগেই। তার জেরে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল মোদি সরকার। এবার এই সমস্ত প্রকল্পের টাকা ধীরে ধীরে আসতে চলেছে বলেই সূত্রের খবর। কিন্তু, বিগত দিনে সংঘটিত দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিচ্ছে ডবল ইঞ্জিন রাজ্য। সেই কারণেই আর্থিক লেনদেনের তথ্য তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে। এই বিষয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘পঞ্চায়েত প্রধান, জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রভৃতির একটি বড়ো অংশ এক একটা দুর্নীতির প্রতিমূর্তি। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। স্যাম্পেল সার্ভে করেছি। প্রতিটি পঞ্চায়েতে স্পেশাল অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাতে পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান থেকে শুরু করে অফিসার, বিডিও পর্যন্ত যাদেরকেই দোষী হিসাবে পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিগত কয়েকবছর ধরে সমস্ত দপ্তরের তুলনায় সবথেকে বেশি টাকা বরাদ্দ হত পঞ্চায়েত দপ্তরের জন্য। কারণ, কেন্দ্র টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় এই দপ্তরের মাধ্যমেই জবকার্ড হোল্ডারদের বকেয়া মেটানো, বাংলার বাড়ি, পথশ্রী প্রকল্পের রূপায়ণ করত রাজ্য। এছাড়া স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং অর্থ কমিশনের টাকা পৌঁছেছে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত। আবার কেন্দ্রের টাকা দেওয়া বন্ধ করার আগে ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা এবং আবাস প্রকল্পের টাকাও পৌঁছেছিল জেলায় জেলায়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সদ্য নির্মিত রাস্তার পিচ উঠে যাওয়া থেকে শুরু করে নানান ধরনের অভিযোগ করেছে গ্রামবাসীরা। সেক্ষেত্রে কোনো সুবিধা পেতে কাট মানি নেওয়া হয়েছে কি না তাও দেখা হবে বলেও দেখা হবে বিশেষ অডিটে।
অর্থাৎ, কাজের বরাদ দিতে ঠিকাদারদের থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে। সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না তাও দেখা হবে। আবার মানুষ যাতে নিজেদের সুবিধা অসুবিধার কথা সহজেই পঞ্চায়েত দপ্তরের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, সেই লক্ষ্যে বিশেষ একটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু হবে। দিলীপবাবু জানিয়েছেন, বর্তমানে পঞ্চায়েত দপ্তরের একটি হেল্পলাইন লাইন নম্বর আছে। তবে ১০ ডিজিটের এই নম্বর গ্রামবাংলার মানুষই পক্ষে মনে রাখা কষ্টকর। সেই কারণেই চার ডিজিটের একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ আধিকারিকদের নিয়ে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্ট জমা পড়বে পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কাছে। সর্বোপরি নবান্নের শীর্ষস্তরের সঙ্গে সেই রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।