Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গিদ্দাপাহাড়ে নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে থাকা নথি ডিজিটাইজেশন করার প্রস্তাব স্পিকারের

পাইনের জঙ্গল। পাহাড়ের ঢালে চা বাগান। ৯০ বছর আগে এমন শুনশান গিদ্দাপাহাড়ে দাদার বাড়িতে গৃহবন্দি ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

গিদ্দাপাহাড়ে নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে থাকা নথি ডিজিটাইজেশন করার প্রস্তাব স্পিকারের
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: পাইনের জঙ্গল। পাহাড়ের ঢালে চা বাগান। ৯০ বছর আগে এমন শুনশান গিদ্দাপাহাড়ে দাদার বাড়িতে গৃহবন্দি ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তিনি এখানে বসেই রচনা করেন কংগ্রেসের হরিপুরা সভার বক্তৃতা। স্ত্রীকে লেখেন একাধিক চিঠি। স্বাধীনতা দিবসের মুখে বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িতে পা রাখলেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। তিনি ঐতিহাসিক এই নথিগুলি ডিজিটাইজেশন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই সঙ্গে শতবর্ষ প্রাচীন বাড়িটির হেরিটেজ তকমা চান স্থানীয়রা। 

Advertisement

দার্জিলিং জেলার ঐতিহাসিক স্থানগুলির মধ্যে কার্শিয়াং পাহাড়ের গিদ্দাপাহাড় অন্যতম। যা দেশ নায়ক নেতাজির স্মৃতি বিজরিত। এদিন সংশ্লিষ্ট ভূমিতে পা রাখেন বিধানসভার স্পিকার। তিনি প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে একতলা এই বাড়িটি পরিদর্শন করেন। নেতাজির লেখা বক্তৃতা, চিঠি, তাঁর ব্যবহার করা আসবাবপত্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন। বর্তমানে বাড়িটি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে। সংশ্লিষ্ট বাড়ির ইনচার্জ তথা মিউজিয়ামের কিউরেটর গণেশ প্রধান বলেন, এখানকার নথিগুলি ডিজিটাইজ করার পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার। পাশাপাশি, তিনি এই বাড়ির পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠাতে বলেছেন। তিনি সরকারের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। এটাকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও পাঠাব। 
বর্তমানে রাজ্যে নেতাজিকে নিয়ে চলছে অপপ্রচার। শাসকদলের বিজেপির একাংশ কুৎসা করছেন বলে অভিযোগ। এমন প্রেক্ষাপটে  সংশ্লিষ্ট বাড়িটি হেরিটেজ তকমা দেওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯০৬ সালে প্রায় পৌনে দুই একর জমির উপর একতলা বাড়িটি তৈরি করেন এক ব্রিটিশ সাহেব। ১৯২২ সালে তা কিনে নেন নেতাজির মেজদা তথা ব্যারিস্টার শরৎচন্দ্র বসু। সংশ্লিষ্ট বাড়িতে বহুবার ঘুরতে এসেছেন নেতাজি সুভাষ। ১৯৩৬ সালে সংশ্লিষ্ট বাড়িতেই তাঁকে গৃহবন্দি করেছিল ব্রিটিশ সরকার। তখন এখানে বসেই তিনি কংগ্রেসের হরিপুর কনভেনশনের বক্তৃতা লিখেছিলেন। এখান থেকেই তাঁর স্ত্রী এমিলি শেঙ্কলের কাছে বহু চিঠি লিখিছিলেন। 
বর্তমানে শতবর্ষ প্রাচীন বাড়িটির দেখভালের দায়িত্বে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাড়িটি প্রায় ১২০ বছরের প্রাচীন। ১৯৯৬ সালে বাড়িটি অধিগ্রহণ করে রাজ্য সরকার। ২০০০ সালে সেটির দায়িত্ব দেওয়া হয় নেতাজি মিউজিয়াম অ্যান্ড সেন্টার ফর স্টাডিস ইন হিমালয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস সোসাইটি অ্যান্ড কালচারের হাতে। একতলা বাড়িটিতে তিনটি বড়ো এবং চারটি ছোটো রুম, বারান্দা রয়েছে। সেখানে নেতাজির লেখা ১০-১৫টি চিঠি, বিদেশ থেকে তাঁকে পাঠানো কিছু চিঠি, তাঁর ব্যবহার করা বিছানা, রাইটিং টেবিল, চেয়ার সহ বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র, নেতাজির বিভিন্ন ধরনের ছবি সজ্জিত রয়েছে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ