


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের চাপে শেষমেশ সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের ‘শাস্তি’ প্রত্যাহার করতে চলেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এ ব্যাপারে সরকারেরর পক্ষে সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে আজ মঙ্গলবার একটি ‘মোশন’ আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সাংসদরা সাসপেন্ড। তবে তাঁরা রোজই আসছেন সংসদে। প্রতিবাদে ধরনায় বসছেন সংসদ ভবনের প্রধান ফটক মকর দ্বারের সামনের সিঁড়িতে।
সাসপেনশন ওঠে যাওয়ার পরেও যে বিরোধীরা শান্তশিষ্ট হয়ে বসে থাকবেন, এমন কোনো গ্যারান্টি দিচ্ছি না বলেই সোমবার জানিয়ে দেন কংগ্রেসের লোকসভার মুখ্যসচেতক কে সুরেশ। তিনি বলেন, বিজেপির নিশিকান্ত দুবে সভার অন্দরে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পরেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আমরা স্পিকারকে একথা নালিশ করেছি। তাই সভার অহেতুক হল্লা করব না বলে কথা দিলেও প্রয়োজনে প্রতিবাদ করব না, এমনটা নয়। প্রতিবাদ বিরোধীদের অধিকার।
এদিন দু’ দফায় ওম বিড়লার সঙ্গে বিরোধীদের বৈঠক হয়। আট বিরোধী সাংসদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করার দাবি করেন তাঁরা। স্পিকার বলেন, রিজিজুর সঙ্গে কথা বলুন। সেই মতো রিজিুজুর সঙ্গেও কথা হয়। পরে স্পিকারের মধ্যস্থতায় ঠিক হয়েছে, সরকারই মোশন আনবে। যদিও তাঁকে পদচ্যুত করতে বিরোধীদের উদ্যোগের পর আরও কড়া হচ্ছেন স্পিকার। সংসদের অন্দরে প্লাকার্ড হাতে বিরোধীদের বিক্ষোভ বরদাস্ত করবে না বলেই বিরোধীদের জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার জন্য প্রয়োজনে সংসদে প্রবেশের সময় সাংসদদের ব্যাগও পরীক্ষা করতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বিশেষ সূত্রে খবর, বিরোধীদের এমনই আভাস দিয়ে স্পিকার বলেছেন, অব সিআইএসএফ সে লড় লো!
আগে সংসদের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল পার্লামেন্ট সিকিওরিটি সার্ভিসের (পিএসএস) কর্মীরা। এখন পুরো দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে সিআইএসএফের উপর। যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে। তাই সংসদের যাবতীয় দায়িত্ব লোকসভার স্পিকারের হলেও এক্ষেত্রে তিনিও অমিত শাহর মন্ত্রকের উপরই বিষয়টি ছাড়তে চাইছেন বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হোক এপস্টাইন ফাইল, গত কয়েকদিন যেভাবে আসল হাতা-খুন্তি-কড়াই সহ এলপিজি’র কাটআউট নিয়ে লোকসভার অন্দরে বিরোধীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে, তাতে প্রবল ক্ষুব্ধ ওম বিড়লা। তাই কোনো সাংসদ যাতে এসব আর সংসদের অন্দরে নিয়ে ঢুকতে না পারেন, তারই লক্ষ্যে বাড়তি ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছেন বিড়লা।