সংবাদদাতা, তেহট্ট: স্কুলের গেটে মুখ দেখালেই হয়ে যাবে হাজিরা। পড়ুয়া কোন সময়ে স্কুলে ঢুকল, কখন বের হল সেই তথ্য পৌঁছে যাবে অভিভাবকের মোবাইলে। পড়াশোনায় ব্যবহার হবে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(এআই) প্রযুক্তি। শনিবার তেহট্টের বেতাই উচ্চ বিদ্যালয়ে এমনই আধুনিক ব্যবস্থার সূচনা হল। ‘স্মার্ট অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম’ এবং দু’টি ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’-এর উদ্বোধন করেন রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু।
এই স্কুলে ২৬০০ পড়ুয়া রয়েছে। পড়ুয়াদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই ফেস-রেকগনিশন প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট প্রবেশপথ দিয়ে স্কুলে ঢোকা ও বেরনোর সময় পড়ুয়াদের মুখ স্ক্যান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিতি নথিভুক্ত হবে। সেই সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইলেও বার্তা পৌঁছে যাবে। এই প্রযুক্তির ফলে স্কুল চলাকালীন কোনো পড়ুয়া বাইরে বেরলে বা ঢুকলে সেই তথ্যও জানতে পারবেন অভিভাবকরা।
তবে শুধু পড়ুয়া নয়, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর পাল। তাঁর দাবি, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপস্থিতি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে।
এদিন স্কুলে দু’টি স্মার্ট ক্লাসরুমেরও উদ্বোধন হয়। রুটিন মেনে প্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রথম পিরিয়ড থেকে শেষ পিরিয়ড পর্যন্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লাস নেবেন। স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে পাঠদানের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এআই-ভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগও থাকবে। স্কুলের দ্বাদশের পড়ুয়া নবনীত সরকার ও সুভাষ সমাজপতি জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ক্লাস আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য হবে।
এই প্রযুক্তি চালুর অনুষ্ঠানে বিধানসভার স্পিকার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তেহট্ট ও করিমপুরের দুই বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ এবং সমরেন্দ্রনাথ ঘোস, মহকুমা শাসক অভিজিৎ রায়, বিডিও, তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রমুখ। রথীন্দ্রবাবু বলেন, আগামী দিনে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়বে। আজকের পড়ুয়ারাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। তাই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা প্রয়োজন। বেতাই উচ্চ বিদ্যালয়ের স্মার্ট ক্লাস স্মার্ট এটেন্ডেন্স উদ্বোধনে স্পিকার রথীন্দ্র নাথ বসু। -নিজস্ব চিত্র