পর্তুগাল- ০ : স্পেন- ১
ডালাস: ইউরোপের দুই হেভিওয়েটের লড়াই। উন্মাদনার কোনো খামতি ছিল না। ম্যাচের শুরু থেকেই পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে ম্যাচের ভাগ্য। রোনাল্ডো, ইয়ামাল, ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, পেড্রি, ওলমোদের টপকে ম্যাচের যাবতীয় আর্কষণ শুষে নেন দুই গোলরক্ষক ডিয়েগো কোস্তা আর উনাই সিমোনে। একের পর এক দুরন্ত সেভে দলের পতন রোধ করেন তাঁরা। ম্যাচ ক্রমশ এগতে থাকে অতিরিক্ত সময়ে দিকে। তারমধ্যেও সিংহভাগ দাপট বজায় রেখে কাঙ্ক্ষিত গোল তুলে নিতে না পারায় ৭৫ মিনিটে প্রথম পরিবর্তনের পথে হাঁটেন স্পেন কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তে। অ্যালেক্স বিয়েনার জায়গা মাঠে নামেন ফেরান তোরেস। আর মিনিট দশেক বাদেই আসেন মিকেল মেরিনো। এই জোড়া পরিবর্তনেই বাজিমাত করলেন স্পেন কোচ। সংযোজিত সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের পাস থেকে লক্ষ্যভেদ সুপার-সাব মেরিনোর। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের শেষ আটের টিকিট পাকা স্প্যানিশ আর্মাডার।
চলতি আসরে এখনও পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। সোমবার অবশ্য তিন কাঠির নীচে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় সিমোনেকে। প্রথমার্ধের শেষলগ্নে নুনো মেন্ডিজের শট ক্রসবারে লাগার পাশাপাশি বেশ কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রোনাল্ডোরা। তবে স্পেনের দুর্গপ্রহরীকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ রবার্তো মার্তিনেজের ছেলেরা। পক্ষান্তরে, নিজেদের ব্যর্থতায় ম্যাচটা কঠিন করে তুলেছিল স্পেন। ম্যাচের শুরুতেই ওয়ারজাবাল সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে অনেক আগেই জয়ের পথ সুনিশ্চিত করতে পারত তারা। শুধু তাই নয়, ইয়ামালও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। আসলে বড় আসরের চাপ নেওয়ার দক্ষতা এখনও রপ্ত করতে ব্যর্থ তিনি। সেই কারণেই অনেক বেশি কঠিন হয় স্পেনের কাজ।
শেষ আটের লড়াইয়ে স্পেনের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। তার আগে অবশ্যই দলে দক্ষ স্কোরারের অভাব চিন্তায় রাখবে কোচ ফুয়েন্তেকে। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, ‘বিশ্বকাপের অন্যতম দুই সেরা দলের লড়াইটা এমনই হওয়ার কথা ছিল। নিঃসন্দেহে ফাইনালের আগেই আরও এক ফাইনালের সাক্ষী থাকলাম আমরা। দু’দলই গোলের জন্য ঝাঁপিয়েছিল। বিশেষত আমরা বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করি। আগামী ম্যাচের আগে এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে ছেলেরা শেষ মিনিট পর্যন্ত যে লড়াই মেলে ধরেছে তাতে আমি সন্তুষ্ট।’