স্পেন-৩ : অস্ট্রিয়া-০
স্পেন-৩ : অস্ট্রিয়া-০
জয়ন্ত সেন: স্পেনের তিকিতাকায় দিশাহারা অস্ট্রিয়া! প্রত্যাশিতই ছিল। ভাগ্য ভালো, আরও বেশি গোল খায়নি রালফ রাংনিকের দল। কারণ, বৃহস্পতিবার ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে রেফারির বাঁশি বাজানো— একচ্ছত্র আধিপত্য রেখেছে লুই ডে লা ফুয়েন্তের ছেলেরা। সে বল দখলের লড়াইয়ে হোক বা প্রতিপক্ষের গোলে শট। জোড়া লক্ষ্যভেদে নায়ক অবশ্যই মিকেল ওয়ারজাবাল। অপর গোলদাতা পেড্রো পোরো।
অথচ প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের কাছে আটকানোর পর এই স্পেনকে নিয়ে রে রে পড়ে গিয়েছিল। কত আলোচনা-সমালোচনা! ‘গ্রুপ পর্বেই বিদায়’ এমন ভবিষ্যদ্বাণীও কেউ কেউ করেছিলেন। অস্বীকারের উপায় নেই! সেদিন খারাপ খেলেছিল স্পেন। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ এমনিতেই কঠিন হয়। তারপর অজানা কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ। কিন্তু যত সময় গড়াচ্ছে এই স্পেন কিন্তু ভয়ংকর হয়ে উঠছে। শেষ ষোলোয় লা রোহাদের সামনে পর্তুগাল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে!
২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। কিন্তু, শেষ তিনটি বিশ্বকাপে নক-আউটে জিততে পারেনি। এবার সেই খরা কাটল। মাথায় রাখতে হবে, এখনও পূর্ণশক্তির দল নামাতে পারেননি কোচ ফুয়েন্তে। স্পেনের ২০২৪ ইউরো জয়ের প্রধান কারিগর ছিল নিকো উইলিয়ামস-লামিনে ইয়ামাল জুটি। কিন্তু চোটের কারণে নিকো বেঞ্চেই বসে। তা সত্ত্বেও অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলল স্প্যানিশ আর্মাডা। পুরো ম্যাচে ২৩টি শট নিয়েছে ইয়ামালরা। তারমধ্যে ১০টিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, অস্ট্রিয়া ৫টি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। তাই কৃতিত্ব প্রাপ্য স্প্যানিশ রক্ষণেরও। ২৯ মিনিটেই গোলের দেখা পেয়েছিল কুকুরেয়া। তবে তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অবশ্য তার মিনিট সাতেক পর লিড নেয় স্পেন। বাঁ দিক থেকে কুকুরেয়ার নীচু ক্রসে জাল কাঁপায় ওয়ারজাবাল (১-০)। দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিপজ্জনক স্পেন। রড্রি-পেড্রি-ওলমো— স্পেনের মাঝমাঠ তো সোনায় বাঁধানো। এই তিনজনের তিকিতিকার সামনে রীতিমতো ছন্নছাড়া অস্ট্রিয়া। কোচ রাংনিকেরও তখন মাথায় হাত। আর ৬৬ মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করল ফুয়েন্তে-ব্রিগেড। বায়েনার বাড়ানো বলে হেডে জাল কাঁপায় পোরো (২-০)। অস্ট্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতে সেই ওয়ারজাবাল। কুকুরেয়ার নিখুঁত পাস থেকেই লক্ষ্যভেদ স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের (৩-০)।