সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়: বেন্টলি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের মাঠে তখন আগুন ঝরাতে ব্যস্ত সূর্যদেব। নীচে সবুজ গালিচায় হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়াচ্ছেন একদল ফুটবলার। কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ঘাম। মাঠে ছায়া বলতে কিছু নেই— কেবল চড়া রোদ। আর তা উপেক্ষা করেই কড়া অনুশীলনে কিলিয়ান এমবাপে, ওসুমানে ডেম্বেলেরা। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ ইচ্ছে করেই এমন গরমে দলের অনুশীলন রেখেছেন। কারণ, প্লেয়ারদের এই কষ্টটাই তাঁর প্রয়োজন। যাতে শনিবার প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফিলাডেলফিয়ার দাবদাহের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন এমবাপেরা। পূর্বাভাস রয়েছে, ম্যাচের দিন ফিলাডেলফিয়ার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি স্পর্শ করতে পারে। এরমধ্যেই ওলিসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, স্টাফরা বরফ ভরতি বালতি আর ঠান্ডা স্কার্ফ নিয়ে দৌড়ে এলেন। কিন্তু, চোখেমুখে একটু জল নিয়েই আবার উঠে দাঁড়ালেন ফরাসি প্লে-মেকার। যেন নিজেকেই বললেন, ‘এখনই থামলে হবে না। বিশ্বকাপ জিতেই ক্ষান্ত হব’। সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে ফের যোগ দিয়েই বল বাড়ালেন এমবাপের জন্য। তা ধরে লক্ষ্যভেদ করতেই রিয়াল মাদ্রিদের তারকা জড়িয়ে ধরলেন ওলিসেকে। দিদিয়ের দেশঁর মুখেও তখন হাজার ওয়াটের হাসি। তিনি ভালোমতোই জানেন শনিবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এই জুটি ছন্দে থাকলে খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে প্যারাগুয়ে। সঙ্গতে আবার ডেম্বেলে, বারকোলা!
অনুশীলনে এমবাপেদের খুনে মেজাজ দেখে খুশি হলেও প্যারাগুয়েকে নিয়ে সতর্ক দেশঁ। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দেশটির প্রতিশোধের মানসিকতায়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফ্রান্সকে বেগ দেওয়ার পরও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল প্যারাগুয়ের। অতিরিক্ত সময়ে গোল্ডেন গোলে ম্যাচ জেতে ফরাসি-ব্রিগেড। কোচ দেশঁ সেই ফ্রান্স দলের অধিনায়ক ছিলেন। পরে তাঁরা বিশ্বকাপও জেতেন। তারপর প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে প্রথমবার মুখোমুখি হতে চলেছে ফ্রান্স। বলার অপেক্ষা রাখে না, সেই হারের প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে গুস্তাভো আলফারোর দল। আর চলতি আসরে রাউন্ড অব ৩২’তে জার্মানিকে ছিটকে দিয়ে প্যারাগুয়ে প্রমাণ করেছে, তারা অঘটন ঘটাতে জানে।
চলতি টুর্নামেন্টে ফ্রান্স অবশ্য রোলার চালিয়ে এগচ্ছে। আক্রমণে প্রধান অস্ত্র এমবাপে ইতিমধ্যেই ৬বার বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছেন। পাশাপাশি ২টি অ্যাসিস্টের সুবাদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে। ডেম্বেলের ৪ গোল। প্লে-মেকার ওলিসে আবার একাই ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। আগের চার ম্যাচ চার জয়, ১৩ গোল দিয়ে মাত্র দু’টি হজম— এই ফ্রান্সকে ভয় না করলে, আর কাকে করবে? বিধ্বংসী আক্রমণভাগের পাশাপাশি ফরাসি ব্রিগেডের রক্ষণও বেশ জমাট। দেশঁর বেঞ্চেও বিলাসিতা কম নেই। রায়ান চেরকি, ডিসেরে ডুয়ের মতো তারকারা প্রথম একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না। উলটোদিকে, প্যারাগুয়ের মূলমন্ত্র— রক্ষণ, ধৈর্য ও প্রতি-আক্রমণ। এই কৌশলেই জার্মানিকে হারিয়েছে তারা। তবে চোটের কারণে এই ম্যাচে অনিশ্চিত ডিফেন্ডার ওমর আলদেরেতে।
এমবাপে-ডেম্বেলে-ওলিসে-বারকোলার ফর্মের নিরিখে এই ম্যাচে ফেভারিট অবশই ফ্রান্স। কিন্তু প্যারাগুয়েও প্রমাণ করেছে, তারা চাপের মুখে ভেঙে পড়ার দল নয়। সেই সঙ্গে ফিলাডেলফিয়ার তীব্র দাবদাহ। টানটান লড়াইয়ের অপেক্ষা ফুটলেপ্রেমীরা।