কার্লেস কুয়াদ্রাত: চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন বাধা টপকে লক্ষ্যে অবিচল স্পেন। উরুগুয়ে, পর্তুগাল ও সর্বশেষ বেলজিয়ামের মতো হেভিওয়েট দলকে বশ মানিয়েছে লুই ডে লা ফুয়েন্তের ছেলেরা। প্রতিটি ম্যাচেই কিন্তু সিংহভাগ রাশ ছিল রড্রি-ইয়ামালদের হাতে। তবে এবার তাদের প্রতিপক্ষ দুরন্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে দেশঁ ব্রিগেডকে। এখনও পর্যন্ত ১৬ বার বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে তারা। বল পজেশন রেখেছে ৬৪ শতাংশ। এমন দলের বিরুদ্ধে অবশ্যই কাজটা সহজ হবে না লা রোহা ব্রিগেডের। সবচেয়ে বড়ো কথা, মঙ্গলবার এমবাপেকে শান্ত রাখাই সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ কোচ ফুয়েন্তের সামনে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দুর্বল কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছিল স্পেন। সেই ম্যাচে দলের প্রথম একাদশ নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। তবে সেই ভুল দ্রুত শুধরে নেন তিনি। বিশেষত প্রথম একাদশে ইয়ামাল আর ওলমোর অন্তর্ভুক্তি এই স্পেন দলের চেহারা বদলে দিয়েছে। ঠিক একইভাবে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে পেড্রির জায়গায় ফাবিয়ান রুইজকে দলে আনাটা ফুয়েন্তের মাস্টারস্ট্রোক। তাই ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও এমন কিছু চমকের আশায় রইলাম। মনে রাখতে হবে, মঙ্গলবার মুখোমুখি হতে চলা দু’টি দলই পজেশনাল ফুটবল খেলতে ভালোবাসে। তাই রড্রিদের উচিত, হাই-প্রেসিং ফুটবলের উপর জোর দেওয়া।
চলতি আসরে ইতিমধ্যেই এমবাপের নামের পাশে ৮টি গোল। এছাড়া ডেম্বেলে জাল কাঁপিয়েছে পাঁচবার। একইসঙ্গে মাইকেল ওলিসে ও ডেসিরে ডুয়েও দুরন্ত ছন্দে। পক্ষান্তরে, স্পেন রক্ষণ এখনও পর্যন্ত পরাস্ত হয়েছে মাত্র একবার। তাই ফ্রান্স অ্যাটাক ভার্সেস স্পেন ডিফেন্সের ডুয়েল দেখার অপেক্ষায় রইলাম। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফের বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানোর সুযোগ স্প্যানিয়ার্ডদের সামনে। অন্যদিকে, টানা তৃতীয়বার খেতাবি লড়াইয়ের টিকিট পাকা করতে মরিয়া দেশঁর ছেলেরা। তবে এই দু’দলের শেষ দু’টি সাক্ষাতেই কিন্তু শেষ হাসি হেসেছে স্পেন। তাই মঙ্গলবার ইয়ামালদের আরও এক জয় দেখার আশায় বুক বাঁধছে গোটা দেশ। বাড়িতে বসে তা দিব্যি টের পাচ্ছি।