বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ‘ক্লাব সমন্বয় সমিতি’ দিয়ে শুরু! ‘মমতাবাদী ভবন’ হয়ে অধুনা রূপ পেয়েছে ‘কর্তব্য ভবন’-এ! দ্রুত রং বদলে ফেলা দমদম রোডের সেই তিনতলা ভবনই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। দেড় দশকের কিছু বেশি সময়ে পাঁচবার মালিকানা বদল! বিভিন্ন দলের নেতা-মন্ত্রী, কাউন্সিলারদের স্মৃতি বইছে বাড়িটি। আগামী দিনে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল হলে ওই বাড়ি কোন রূপে ও রঙে সেজে উঠবে, তারই আগাম আলোচনায় চায়ের কাপে তুফান উঠছে দমদমজুড়ে। যদিও বিজেপির দাবি, কোনো দলীয় কার্যালয় নয়, অরাজনৈতিক একটি ভবন হিসাবে তারা এটি ব্যবহার করবে। সেখানে বসে বিধায়ক তাঁর কর্তব্য পালন করবেন।
২০০০ সাল নাগাদ দমদম রোডে জিটিআরের মাঠ লাগোয়া জমি ফাঁকাই পড়ে থাকত। সেখানে এক কংগ্রেস কর্মী তথা ডেকরেটর্স ব্যবসায়ী রবি দাস বাঁশ সহ নানা সামগ্রী ফেলে রাখতেন। পাশেই ইন্দিরা ময়দান খেলার মাঠ। তখন দক্ষিণ দমদমের দোর্দন্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা কাজল গুহ। তিনি তখন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা পুরসভার সিআইসি। বেলঘরিয়ার আদলে তিনি দমদমেও শুরু করলেন ‘ক্লাব সমন্বয় সমিতি’। বিভিন্ন ক্লাবকে এক ছাতার তলায় এনে খেলা সহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শুরু হল। ২০০৭ সালে শুরু হল তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে উদ্বোধন হয় সেই ভবনের। তবে এখনকার মতো ঝাঁ-চকচকে ছিল না। কিন্তু ২০১১ সালে পালাবদলের পর তালা পড়ে যায় ভবনে। ২০১৬ সালে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসার পর ওই ভবনের চাবি কাজল গুহর থেকে নিয়ে নেন তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার সিআইসি প্রবীর পাল ওরফে কেটি। ঢেলে সাজা হয় গোটা ভবন। কনফারেন্স হল, অফিস, ক্যান্টিনসহ আধুনিক নানা পরিকাঠামোয় সেজে ওঠে ভবনটি। তবে রেখে দেওয়া হয়েছিল আগের নাম ‘ক্লাব সমন্বয় সমিতি’। সেখানে কাউন্সিলার হিসাবে অফিসও চালাতেন প্রবীরবাবু্। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে টালমাটাল হয় দমদমের রাজনীতি। বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে দল থেকে কেটিকে বহিষ্কার করা হয়। ভোটের ফল প্রকাশ হওয়া মাত্র শহর তৃণমূল সভাপতি তথা ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুকান্ত সেনশর্মা ওরফে রাজুর নেতৃত্বে অফিসটির দখল নেওয়া হয়। যথেচ্ছ ভাংচুর চলে। ভবনের সামনে থাকা মারাদোনা, পেলে, কপিলদেব সহ বহু খেলোয়াড়ের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন বিধায়ক তথা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বাড়িটির নাম রাখেন ‘মমতাবাদী ভবন’। বাড়ির সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ব্রাত্যববাবুর বিশাল ছবি লাগানো হয়। সেখানে বসতে শুরু করেন ব্রাত্য। ২০২৩ সাল থেকে ফের তৃণমূলে জায়গা পাওয়া প্রবীর পালকে ওই অফিস ছেড়ে দেওয়া হয়। এবার ভোটে বিজেপি জেতার পর ওই ভবনের চাবি ভেঙে দখল নেয় গেরুয়া শিবির। বিধায়ক অরিজিৎ বক্সির উপস্থিতিতে ‘মমতাবাদী ভবন’ লেখা মুছে লাগানো হয় ‘কর্তব্য ভবন’ লেখা বোর্ড। প্রবীর পাল বলেন, ‘২০২১ সালেও ওই অফিস দখল হয়েছিল। নতুন তো কিছু নয়।’ বিজেপির দমদম বিধানসভার ৩ নম্বর মণ্ডল সভপতি অনির্বাণ সমাজপতি বলেন, ‘ক্লাব সমন্বয়ের অফিস দখল করে তৃণমূল রাজনৈতিক কার্যালয় বানিয়েছিল। এবার ওখান থেকে বিধায়ক তাঁর কর্তব্য পালন করবেন।’