নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অফলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন আর হচ্ছে না। আয় কমবে পুরসভার। এই সমস্যার কথা বাজেটের এক মাস আগে বোর্ড মিটিংয়ে শহরের সমস্ত কাউন্সিলারকে জানানো হয়েছিল। আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে কীভাবে বাজেট তৈরি হবে, তার পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল প্রত্যেকের কাছ থেকে। কিন্তু বাজেট পাশের পর দেখা গেল, পুরসভার কাউন্সিলারদের মাসিক ভাতা দেড় হাজার টাকা বাড়িয়ে ২৪ হাজার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের জন্য এসেছে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা। অন্যদিকে, অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক বেতন ২০ টাকা করে মাসে ৫২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বহুতলের সিসি, মিউটেশন, সম্পত্তি কর সহ বিভিন্ন খাতে আয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড। কাউন্সিলারদের সরকারি ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে শহরজুড়ে জোর শোরগোল পড়েছে। কাউন্সিলারদের মাসিক সাম্মানিক ২২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া কাউন্সিলার ও তাঁদের পরিবারের মেডিক্লেম প্রিমিয়াম বাবদ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগে তাঁরা বা পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে বাৎসরিক দু'’লক্ষ টাকা পেতেন। তা এবার বাতিল করে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা হল। অন্যদিকে, পুরসভার অস্থায়ী কর্মচারীদেরও বেতন দৈনিক ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অস্থায়ী কর্মীরা মাসে ২৬দিন কাজ করেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের মাসিক বেতন বাড়বে ৫২০ টাকা। এছাড়া ইপিএফের ১২ শতাংশ বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া আয় বাড়াতে বহুতলের সিসি, মিউটেশন, শহরবাসীর থেকে কর আদায়, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজ্ঞাপন, পার্কিং থেকে আয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এতে শহরবাসীর উপর করের বোঝা চাপে কি না, সেটাই দেখার। যদিও পুরকর্তাদের দাবি, শহরের বহু বহুতলের সিসি নেই। কয়েক হাজার ফ্ল্যাটের মিউটেশন নেই। অনেকের সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। সেইসব বকেয়া আদায়ে জোর দিয়ে আয় বাড়ানো হবে। নতুন কর চাপবে না। তবে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প থেকে ইউজার ফিজ নেওয়া হলে, অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হবে প্রশ্নে তাঁরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এই ফিজ নেওয়া এখন বাধ্যতামূলক।
এছাড়া শহরে ওয়ার্ড ভিত্তিক ব্যয় দ্বিগুনের বেশি বাড়িয়ে ৫৭ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ড রক্ষণাবেক্ষণ খাতে খরচ ১০ লক্ষ টাকা বাড়িয়ে ১৬ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এই টাকায় মূলত ওয়ার্ডের পার্ক দেখভালের জন্য মালিদের বেতন হয়। এই বিষয়ে মতামতের জন্য চেয়ারম্যান কস্তুরি চৌধুরিকে বার বার ফোন করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি।