আমেদাবাদ: প্রথমে টাই। তারপর সুপার ওভার। এখানেই শেষ নয়। এক ওভারের সেই লড়াইয়েও মীমাংসা হয়নি। অগত্যা দ্বিতীয় সুপার ওভার, যেখানে আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২৩। জবাবে প্রথম দু’বলে এক উইকেটে আফগানিস্তানের স্কোর শূন্য। অর্থাৎ জিততে হলে শেষ চার বলের প্রতিটিতেই দরকার ছক্কা। কার্যত অসম্ভব লক্ষ্য। তবে হাল ছাড়েননি সদ্য ক্রিজে পৌঁছানো রহমানউল্লাহ গুরবাজ। কেশব মহারাজকে পরপর তিনটি ছয় মেরে প্রোটিয়াদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিলেন ডানহাতি ব্যাটার। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ষষ্ঠ বলে পয়েন্টের উপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়লেন ডেভিড মিলারের হাতে। তীরে এসে তরি ডোবার যন্ত্রণা বুকে চেপে মাঠ ছাড়লেন ট্র্যাজিক হিরো গুরবাজ।
বুধবারের মোতেরা সাক্ষী থাকল এমনই নাটকীয় ম্যাচের।
বিশ্বকাপে বেনজির দ্বিতীয় সুপার ওভারে জিতে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করল দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, টানা দু’টি ম্যাচ হেরে কোণঠাসা আফগানিস্তান। ভালো খেলেও কার্যত বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল রশিদ খানদের। অথচ, এদিন বার বার জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেছিল কাবুলিওয়ালার দেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ছয় উইকেটে প্রোটিয়ারা তোলে ১৮৭। রায়ান রিকেলটন (৬১), কুইন্টন ডি’কক (৫৯) রান পান। আজমাতুল্লাহ ওমরজাই তিনটি ও রশিদ দু’টি উইকেট নেন। জবাবে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে লক্ষ্যের দিকে এগচ্ছিল আফগানরা। ৪২ বলে ৮৪ করেন কেকেআরের প্রাক্তন ওপেনার। শেষ ৬ বলে আফগানদের দরকার ছিল ১৩ রান। পড়ে গিয়েছিল ৯ উইকেট। কাগিসো রাবাডার প্রথম বলে আউট হন নুর আহমেদ। ম্যাচ তখনই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই ডেলিভারি নো বল হওয়ায় লাইফলাইন পান রশিদরা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি ছক্কা মেরে খেলা জমিয়ে দেন নুর। চাপের মুখে পরপর আরও দু’টি নো বল করেন রাবাডা। শেষ ৩ বলে দরকার ছিল মাত্র ২। ম্যাচ তখন আফগানদের মুঠোয়। কিন্তু চতুর্থ বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে আউট হন ফজলহক ফারুকি। টাই হয় ম্যাচ।চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সুপার ওভারে লুঙ্গি এনগিডির বলে আফগানরা তোলে ১৭। জবাবে ফারুকির শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে স্কোর সমান করেন ট্রিস্টান স্টাবস। ফের টাই হয়। দ্বিতীয় সুপার ওভারে আজমাতুল্লাহর বলে ডেভিড মিলার-স্টাবসরা তোলেন ২৩। তা টপকে আফগানিস্তানকে জেতাতে না পারলেও গুরবাজের বীরত্বের লড়াই মন ছুঁয়ে যায় ক্রিকেটপ্রেমীদের। কান্নায় ভেঙে পড়েন আফগানরা। পরে মিডিয়াকে রশিদ বলেন, ‘অবিশ্বাস্য ম্যাচ! আমরা হেরেছি, এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। দু’বার জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলাম। তারপরও পারলাম না। এমন হার হজম করতে কষ্ট হচ্ছে।’