


লর্ডস: অবশেষে ঘুচল চোকার্স তকমা। লর্ডসে ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার দর্প চূর্ণ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নিল প্রোটিয়ারা। অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে ২৭ বছর পর আইসিসি ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশেষ বিষয় হল, ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকেই এগিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটল ঠিক উল্টোটা। কেরিয়ারের অন্যতম সেরা এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৩৬ রানের ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ট্রফি নিশ্চিত করলেন মারক্রাম। ৫ উইকেটে জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে, এই জয় কিন্তু সহজ হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও। ১১ জুন টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রোটিয়ারা। প্রথমে ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১২ রানে অলআউট হয়ে যায় অজিরা। জবাবে জঘন্য ব্যাটিংয়ের প্রদর্শন করে দক্ষিণ আফ্রিকাও। প্রথম ইনিংসে তাঁদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৩৮ রান। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৭ রান করে অজিরা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৮২ রান। তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা অবশ্য খারাপ করেনি তাঁরা। চতুর্থ দিনে খেলা শুরু হওয়ার সময় বাভুমাদের স্কোরবোর্ডে রয়েছে ২১৩/২। সকলেই ভেবেছিল হাসতে হাসতেই প্রোটিয়ারা ম্যাচ বের করে নেবেন। কিন্তু তা হয়নি।
চতুর্থ দিনে মরণ কামড় দেয় অস্ট্রেলিয়া। পরপর উইকেট হারান বাভুমা ও স্টাবস। ফলে ম্যাচের রাশ কিছুটা নিজেদের দিকে টেনে নেয় অজিরা। তবে একাই কুম্ভ হয়ে লড়লেন দক্ষিণ আফ্রিকার মারক্রাম। তিনি যখন ১৩৬ রানে আউট হন, ততক্ষণে ক্যাঙারু বাহিনীর কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হয়ে গিয়েছে। জয়ের জন্য প্রোটিয়াদের বাকি ছিল মাত্র ৭ রান। সেই রান করতে আর কোনও অসুবিধা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের। যার জেরে বাভুমার হাত ধরে সত্যি হল দক্ষিণ আফ্রিকার ২৭ বছরের লালন করা স্বপ্ন। গ্যালারিতে বসে আনন্দাশ্রুতে ভিজলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, গ্রেম স্মিথ, ডেল স্টেইনদের মতো প্রাক্তন প্রোটিয়া ক্রিকেটাররাও।