Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জিতলেও তৃণমূলের বহু বিধায়কের দেখাই মিলছে না, উঠছে অভিযোগ

ভোটে জিতলেও এখনও বহু তৃণমূল বিধায়ককে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এমনই অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জিতলেও তৃণমূলের বহু বিধায়কের দেখাই মিলছে না, উঠছে অভিযোগ
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটে জিতলেও এখনও বহু তৃণমূল বিধায়ককে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এমনই অভিযোগ সাধারণ মানুষের। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ এখন আইনি গেরোয় আটকে নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত। বাকিরা হয় কোথাও গিয়েছেন, না হয় নিজেকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন। উলটোদিকে, যে সব কেন্দ্রে বিজেপি হেরেছে, সেখানকার ‘পদ্ম’ প্রার্থী থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতারা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা এলাকার সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন। গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়েই এই পরিস্থিতি।

Advertisement

৪ মে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় যেন দেখাই যাচ্ছে না তৃণমূল নেতৃত্বকে। কেউ বসে গিয়েছেন, কেউ ভয়ে বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন না। একই হাল জয়ী বিধায়কদেরও। তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই রয়েছেন ১৯ জন। কিন্তু তাঁদের অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন বলে দাবি সাধারণ মানুষের। ডায়মন্ডহারবারের বাসিন্দাদের বক্তব্য, বিধায়ক পান্নালাল হালদারকে ভোটের পর আর দেখাই যায়নি সেভাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেদিন এই এলাকায় এসেছিলেন, সেদিন পাল্লালালবাবুকে একবার প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। তারপর তাঁকে আর কেউ দেখেননি। অথচ ডায়মন্ডহারবারের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার অনেক বেশি সক্রিয়। তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন, মিটিং করছেন। বিষ্ণুপুর ও ক্যানিং পশ্চিমের দুই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল গ্রেপ্তার হয়েছেন। ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস আবার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত। একইভাবে বারুইপুর মহকুমায় একাধিক জয়ী বিধায়ককে এখনও সেভাবে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ক্যানিং মহকুমায় একটি মাত্র আসনে জিতেছে বিজেপি। তিনি গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর। তিনি নিজের কেন্দ্র ছাড়াও অন্যান্য এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, বৈঠক করছেন। এছাড়াও মণ্ডল সভাপতি স্তরের অনেক নেতা পঞ্চায়েত কিংবা বিডিও অফিসে গিয়ে এলাকার সমস্যা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। বাসন্তীর তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশাল বলেন, অন্যরা কী করছেন, জানি না। আমি নিজের বিধানসভা এলাকায় বৈঠক করছি। তবে তা ততটা প্রচারের আলোয় আসছে না বলে লোকজন জানতে পারছেন না। 
এদিকে, পুরসভার কাজেও গতি নেই। বিভিন্ন পুরসভার অফিসে জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে ডায়মন্ডহারবারে পুরবোর্ড 
ভাঙার মুখে।

সম্পর্কিত সংবাদ