নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুভমান গিলের অধিনায়কোচিত ইনিংসে মুগ্ধ সৌরভ গাঙ্গুলি। টেস্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রথমবার ব্যাট করতে নেমেই দুরন্ত ইনিংস উপহার দেন তিনি। হেডিংলেতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টে গিলের ফুটওয়ার্ক নজর কেড়েছে সৌরভের। প্রাক্তন অধিনায়ক বলেছেন, ‘দেশের বাইরে টেস্ট খেলতে নেমে ওর পায়ের নড়াচড়া দৃষ্টি আকর্ষণ করল। বিশাল উন্নতি করেছে ফুটওয়ার্কে। দুর্দান্ত সাবলীল দেখাল ওকে। একদম নির্ভুল টেকনিক।’
বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার অবসরের পর এটাই ভারতের প্রথম টেস্ট সিরিজ। স্বাভাবিকভাবে নতুন অধিনায়ক গিলের উপর নজর ছিল ক্রিকেট মহলের। সেই প্রসঙ্গে সৌরভ আরও বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডের উচিত হয়নি টস জিতে ফিল্ডিং করা। তার উপর ওরা ভালো বোলিং করেওনি। ক্রিজে গিলের মুভমেন্ট সত্যিই অসাধারণ লাগল। আশা করব, এভাবেই আগামী দিনে ওকে খেলে যেতে হবে। শুধু ইংল্যান্ড নয়, অন্যান্য দেশেও এভাবে ব্যাট করতে পারলে প্রচুর রান পাবে। তখন ওর টেস্ট গড় ৪০-৪৫ হয়ে যাবে। এই ইনিংসটা অবশ্যই ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ওকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। এই ইনিংসে যেভাবে সুইং সামলেছে, তাতে ওর নিজের দক্ষতার উপর আস্থা বাড়বেই।’
ঋষভ পন্থের আক্রমণাত্মক শতরান সম্পর্কে সৌরভ বলেছেন, ‘ও জোরে বোলিংটা ভালোই খেলে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় পন্থের ব্যাটিং ভালো লাগেনি। বড্ড বেশি শট খেলে ফেলছিল। কিন্তু শুক্রবার ও সংযত ভঙ্গিতে ব্যাট করেছে। দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে। পন্থ কিন্তু টেস্টে গ্রেট।’
ভারতীয় ক্রিকেটে পালাবদলের প্রক্রিয়া নিয়ে সৌরভের মন্তব্য, ‘আমি কখনওই এ নিয়ে চিন্তিত ছিলাম না। বিশ্বাস ছিল, কেউ না কেউ ভারতীয় ক্রিকেটকে ঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যশস্বী জয়সওয়ালের শতরানেও অবাক হইনি। কারণ আমার চোখে ও দুরন্ত ব্যাটার। সব ফরম্যাটেই খেলা উচিত যশস্বীর। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওকে রান করতে দেখেছি। এবার ইংল্যান্ডেও স্বমহিমায়। আশা করছি ও এভাবেই খেলবে।’ প্রাক্তন বোর্ড প্রেসিডেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী, ‘ভারতে প্রতিভার অভাব নেই। দুরন্ত পরিকাঠামোর জন্যই উঠে আসছে ক্রিকেটাররা। আরও অন্তত চার-পাঁচজন ক্রিকেটার অপেক্ষা করছে, যারা সুযোগ পেলেই নিজেকে মেলে ধরবে।’ তবে বিরাট কোহলির শূন্যস্থান পূরণ করা কঠিন বলেই মানছেন তিনি। সৌরভের মূল্যায়ন, ‘বিরাট হল ক্লাস ক্রিকেটার। ওর পরিবর্ত পেতে সময় লাগবে।’
সৌরভ আশাবাদী, যশপ্রীত বুমরাহ সিরিজের প্রতিটি টেস্টেই খেলবেন। তাঁর যুক্তি, ‘চারজন পেসার খেলাচ্ছে ভারত। শার্দূল ঠাকুর যদি লম্বা স্পেল করে তবে বুমরাহর উপর খুব বেশি চাপ পড়ার কথা নয়। কিন্তু দিনে ২০ ওভার বল করতে হলে তিনটি টেস্টও খেলতে পারবে না।’