


ম্যাঞ্চেস্টার: ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস’-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে চাননি যুবরাজ সিং, শিখর ধাওয়ান, হরভজন সিংরা। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেন ভারতের প্রাক্তনরা। অগত্যা সেই ম্যাচ বাতিল হয়ে যায়। তাহলে কোন যুক্তিতে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবেন সূর্যকুমার যাদবরা, উঠছে প্রশ্ন।
প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন সাফ বলেছেন, ‘বরাবরই বলে এসেছি যে, ভারত-পাক মোকাবিলায় সবুজ সংকেত থাকলে সব খেলাতেই তা হোক। অন্যথায়, যদি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিরুদ্ধে ক্রীড়াক্ষেত্রে মুখোমুখি হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকে, তবে সবেতেই তা বজায় রাখা উচিত। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ যদি না হয়, তবে আন্তর্জাতিক কোনও ইভেন্টেই ভারত-পাক ম্যাচ হওয়া উচিত নয়। এটাই আমার অভিমত। তবে বিষয়টি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী।’ আজহার উদাহরণ টেনেছেন ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস’ প্রতিযোগিতার। তাঁর কথায়, ‘প্রবীণদের এই লিগ কিন্তু সরকারি নয়। এটা আইসিসি বা বিসিসিআইয়ের অনুমোদিত আসরও নয়। এটা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত। কিন্তু এশিয়া কাপ হল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রতিযোগিতা।’ একা আজহারই নন, ক্রিকেট মহলের আরও অনেকেই এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার বিরোধী।
এই ইস্যুতে অবশ্য ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলির গলায়। একইসঙ্গে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করেন প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। সৌরভের কথায়, ‘পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহামলার ঘটনা নিন্দাজনক। এমন ঘটনা কখনওই কাম্য নয়। ভারত সবসময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। তবে খেলাকে কখনওই রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো উচিত নয়। ভারত-পাকিস্তান যদি কোনও টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়, তবে খেলা হওয়া দরকার।’
জানা যাচ্ছে, এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা নিয়ে যতই বিতর্ক তৈরি হোক, ভারতের পক্ষে সরে আসা সম্ভব নয়। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রতিযোগিতায় খেলার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে বিসিসিআই। তাছাড়া, ভারতই আয়োজক দেশ। যদিও প্রতিযোগিতা হবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে।