নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গড়াপেটার কালো অধ্যায় থেকে ভারতীয় ক্রিকেটকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। শুধু বাইশ গজ নয়, ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবেও সফল তিনি। সিএবি সচিব, সভাপতি থেকে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট— একের পর গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। তাহলে কেন আবার বঙ্গীয় ক্রিকেটের মসনদে ফিরতে হচ্ছে সৌরভকে? বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে প্রশ্নটা স্বাভাবিক। আসলে সময়ের চাহিদা, বাধ্যবাধকতা এবং তথাকথিত বিরোধীদের জবাব দিতেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ মহারাজের। রবিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সৌরভ বললেন, ‘নির্বাচনের জন্য তৈরি ছিলাম। দেড় বছর ধরে এক জেলা থেকে অন্য জেলা চষে বেড়িয়েছি। সবার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আমি তৈরি ছিলাম। কিন্তু নির্বাচন হচ্ছে না। কী করা যাবে!’
বাংলার ক্রিকেটের সুদিন ফেরানোই সভাপতি সৌরভের প্রথম লক্ষ্য। তিনি বললেন, ‘বাংলার ক্রিকেটের গৌরব ফেরানোর জন্য যা যা করার করব। রনজি ট্রফি শুরুর আগে লক্ষ্মীরতন শুক্লা এবং তার দলের ছেলেদের সঙ্গে কথা বলব। ভিশন টি-২০ আগেই চালু হয়েছে। বাংলার ক্রিকেটের উন্নতিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তবে গত এক-দেড় বছরে বার বার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সিএবি’তে। সাসপেন্ড হয়েছেন যুগ্মসচিব। সিএবি’র ইতিহাসে এই ঘটনা প্রথমবার। এই বিষয়ে সৌরভ যে কড়া অবস্থান নেবেন, সেটা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট, ‘এই ধরনের ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। আগামী দিনে সব কিছু সামলেই এগিয়ে যেতে হবে।’
সৌরভ ছাড়াও রবিবার মনোনয়ন জমা দিলেন বাকি চার পদাধিকারী এবং অ্যাপেক্স কমিটির ১১ জন সদস্য। ২২ সেপ্টেম্বর সিএবি’র বার্ষিক সাধারণ সভা। কোনও পদেই দ্বিতীয় মনোনয়ন জমা পড়েনি। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সৌরভের প্যানেলের দায়িত্বভার গ্রহণ শুধু সময়ের অপেক্ষা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বোর্ডের এজিএমেও প্রতিনিধিত্ব করবেন মহারাজ। তিনি আবার ভারতীয় ক্রিকেটের মসনদে বসতে পারেন? প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসলেন মহারাজ।
কে কোন পদে মনোনয়ন জমা দিলেন: সৌরভ গাঙ্গুলি (সভাপতি), অনু দত্ত (সহ-সভাপতি), বাবলু কোলে (সচিব), সঞ্জয় দাস (কোষাধ্যক্ষ), মদন ঘোষ (যুগ্ম-সচিব)। অ্যাপেক্স কমিটিতে দু’জন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার হতে পারেন দেবাং গান্ধী ও কেয়া রায়।