নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বরানগর: সোনারপুরের এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দমদমের এক হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি নির্যাতিতা ওই মহিলা কয়েকদিন আগে সুমন সাহা নামে ওই হোটেল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, হোটেল মালিক ধর্ষণের পর তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরে বিয়ের কথা বলায়, ঘনিষ্ঠ অবস্থার ছবি ভাইরাল করার হুমকি দেয়। এমনকী, দক্ষিণ দমদমের এক মহিলা তৃণমূল নেত্রী তথা কাউন্সিলার তাঁকে বাড়িতে ডেকে হেনস্তা করেন।
অভিযুক্ত হোটেল ব্যবসায়ীর বাড়ি দক্ষিণ দমদমের রডকল এলাকায়। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এবং লাগোয়া এলাকার একাধিক হোটেলের ডান্স বার চলে তাঁর নিয়ন্ত্রণে। পুলিস ও শাসক দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মধুর। অভিযোগকারিণী জানান, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া একটি হোটেলে ওই ব্যবসায়ী তাঁকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে। পরে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কথা বললেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল করার হুমকি দেয় সে।
ওই মহিলার আরও দাবি, সুরাহার আশ্বাস দেবেন বলে ফোন করে তাঁকে বাড়িতে ডাকেন দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল নেত্রী কেয়া দাস। মহিলার অভিযোগ, এরপর হেনস্তা করে তাঁকে সাদা কোর্ট পেপারে সই করানো হয়। এমনকী, ওই নেত্রীর বাড়ি থেকে তাঁকে নাগেরবাজার থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে রাখা হয়।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সুমন সাহাকে ফোন করা হলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তৃণমূল নেত্রী কেয়া দাস বলেন, আমার বিরুদ্ধে একেবারে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। এই সমস্যার কথা ওরা নিজেরাই আমাকে জানাতে এসেছিল। এলাকার ছেলে হিসেবে সুমনকে একসময় জানতাম। তার সঙ্গে বহুদিন কোনও যোগাযোগ নেই আমার।
সোনারপুর থানা সূত্রের খবর, যে হোটেলে এই কাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি, তা উত্তর ২৪ পরগনার জেটিয়া থানা এলাকায়। তাই এই মামলা ওই থানায় পাঠানোর জন্য সোনারপুর থানার তরফে আদালতে আর্জি জানানো হয়েছে।