Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিশুকন্যা বিক্রিতে ধৃত সোনালির মেয়ে পাচার হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে

শাসনে শিশুকন্যা বিক্রির তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চক্রের ‘দালাল’ সোনালি সাহার নিজেরই বছর বারোর মেয়েকে পাচার করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে।

শিশুকন্যা বিক্রিতে ধৃত সোনালির মেয়ে পাচার হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শাসনে শিশুকন্যা বিক্রির তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চক্রের ‘দালাল’ সোনালি সাহার নিজেরই বছর বারোর মেয়েকে পাচার করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে। শাসন থানার পুলিশের তৎপরতায় ২০২৫ সালে তাকে উদ্ধার করা হয়। মেয়ের দুর্দশা দেখেও নিজেকে বদল করেনি সোনালি। টাকার লোভে পড়শি পরিবারের একরত্তিকে বিক্রি করে দেয় সে। এক্ষেত্রে ঢাল হিসাবে কাজ করেছে কলকাতার একটি আইভিএফ সেন্টার। এদিকে, শাসন থানার টিম শুক্রবার সকালে অন্ধপ্রদেশে রওনা হয়েছে। আজকালের মধ্যেই বিক্রি হওয়া শিশুর হদিশ মিলবে বলে আশাবাদী পুলিশ।

Advertisement

তদন্ত যত এগচ্ছে সোনালি সাহার বিভিন্ন কীর্তি তত খোলসা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, সোনালির দু’বার বিয়ে করেছে। প্রথম বিয়ে হয়েছিল শাসনের এক যুবকের সঙ্গে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে তার ১২ বছরের কন্যাসন্তানকে কাজের টোপ দিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যায় এক আত্মীয়। সেখানে নিয়ে গিয়ে নাবালিকাকে মোটা টাকার কাজের টোপ দিয়ে দালাল মারফত বিক্রি করে দেওয়া হয় উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে। দীর্ঘদিন মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি সোনালি। মেয়েকে ফিরে পেতে বারবার থানার দ্বারস্থ হয় সোনালি। পুলিশ জোরকদমে তল্লাশি চালিয়ে আলিগড় থেকে ২০২৫ সালের প্রথমের দিকে উদ্ধার করে তার মেয়েকে। সেখানে ছ’মাস তাঁকে অন্ধকার জগতে নামতে বাধ্য করা হয় বলে জানতে পারে পুলিশ। বাড়ি ফিরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। ট্রমা কাটাতে ভর্তি করা হয় বারাসত মেডিকেলে। এখন সোনালির মেয়ে সাবালিকা। সোনালি নতুন করে বিয়ে করে দত্তপুকুরের বামনগাছিতে থাকে। মেয়ের অবস্থা দেখেও তার মধ্যে কোনো হেলদোল ছিল না বলেই মনে করছে পুলিশ। না হলে এক একরত্তিকে কীভাবে সে বিক্রি করে দিতে পারল?

প্রসঙ্গত, শাসনের দাদপুরের বাসিন্দা রবীন পাসোয়ান ও টোটোন সরকারের ছ’মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দত্তপুকুরের গৃহবধূ সোনালি সাহার বিরুদ্ধে। আইভিএফ সেন্টারের সঙ্গে সুসম্পর্কের সূত্রে অন্ধ্রপ্রদেশের এক নিঃসন্তান দম্পতিকে মোটা টাকার বিনিময়ে শিশুকে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে পুলিশ সোনালি ছাড়াও দাদপুরের দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের নিয়েই অন্ধ্রপ্রদেশ রওনা হয়েছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ