সংবাদদাতা, তেহট্ট : দাঁড়িয়ে থাকলেও মিলছে না টোটো। আবার যেতে রাজি হলেও আকাশছোঁয়া ভাড়া হাঁকছে। একাংশ টোটো চালকের খামখেয়ালিপনা ও স্বেচ্ছাচারিতায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বেতাই ও সংলগ্ন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ, একজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন অনেক চালক। আর রাত বাড়লেই নির্ধারিত ভাড়ার কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন প্রবীণ, মহিলা ও অসুস্থ যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেতাই বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায় টোটো চালকদের একাংশ রাস্তার উপর যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় প্রায়ই যানজট হচ্ছে। অথচ জরুরি প্রয়োজনে কোনো যাত্রী একা টোটোয় যেতে চাইলে অনেক চালকই যেতে রাজি হচ্ছেন না। বিশেষ করে দুপুরের পর এবং রাতের দিকে এই সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে বলে অভিযোগ। যাত্রীদের অভিযোগ, এক জন যাত্রী নিয়ে গেলে তাঁদের ‘খরচ ওঠে না’ এই যুক্তি দেখিয়ে অনেক চালক যেতে চান না। অথচ একই টোটোয় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। এমনকী, নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচলের অভিযোগও উঠছে একাংশ চালকের বিরুদ্ধে। এক মহিলা যাত্রীর অভিযোগ, কয়েকদিন আগে দুপুরে বিশেষ কাজে বাজারে এসেছিলাম। হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত বাড়ি ফিরতে হচ্ছিল। কিন্তু এক জন যাত্রী নিয়ে কোনো টোটো চালকই যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দু’জনের ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, টোটো চালকদের সংগঠনের নির্ধারিত ভাড়া থাকা সত্ত্বেও একাংশ চালক নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের দিকে এই প্রবণতা বাড়ছে। প্রশাসনের তরফে ভাড়ার তালিকা প্রকাশ্যে টাঙানোর পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি চালানো হোক। বেতাই বাজার সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বপন ঘোষ বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি দুঃখজনক। একশ্রেণির টোটো চালক এই ধরনের ঘটনায় জড়িত। বিষয়টি উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এই ধরনের বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এনিয়ে বেশ কয়েকজন টোটো চালক বলেন, আমরাও শুনেছি ব্যাপারটা। যারা এসব করছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।