


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার(সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট) কাজ সম্পূর্ণ না করায় ফাঁপরে পড়েছে বাঁকুড়া পুরসভা। পুরনো কাজ শেষ না হওয়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেটের ইঞ্জিনিয়ার ও পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার। তাঁরা সমস্যা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নতুন প্রকল্পের কাজের তদারকি করেন। নতুন প্রকল্পের বরাত পাওয়া সংস্থাকে বকেয়া কাজ শেষ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার বলেন, কেশরা এলাকায় পুরসভার জঞ্জাল জমা হয়। সেখানে বেশ কয়েক বিঘা এলাকাজুড়ে আমাদের ডাম্পিং গ্রাউন্ড রয়েছে। ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের মধ্যেই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প গড়ে উঠছে। মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট ওই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে। আট কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগে সেখানে একটি সংস্থা প্লাস্টিক বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজ করত। তারা সব কাজ শেষ না করেই চলে গিয়েছে। ফলে নতুন সংস্থাকে সেই কাজ শেষ করে সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প রূপায়ণের জন্য বলা হয়েছে। পরিদর্শনে যাওয়া পুর বিভাগের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, সরকারের তরফে প্রকল্পের জন্য প্রায় আট কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা ওই কাজ শুরুর বিষয়টিও তদারকি করেছি। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের মধ্যে দেড় হাজার বর্গমিটারজুড়ে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ হবে। রাজ্য নগরোন্নয়ন সংস্থা ও এমইডির সঙ্গে আমরা ওই প্রকল্প রূপায়ণ করছি। প্রকল্পের দু’টি ভাগ রয়েছে। একটি সংস্থা পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। অন্য সংস্থা বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজ করবে। দ্বিতীয় সংস্থাকেই বকেয়া কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরের ২৪টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন কয়েক টন জঞ্জাল নিষ্কাশন করা হয়। দিনের পাশাপাশি রাতেও শহরের জঞ্জাল সাফাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোট গাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহেরও ব্যবস্থা রয়েছে। ওইসব জঞ্জাল প্রথমে শহরের ভ্যাটগুলিতে জমা হয়। সেখান থেকে কম্প্যাক্টর মেশিনের সাহায্যে জঞ্জাল বহনকারী যানবাহনে তোলা হয়। তা ট্রাকে চাপিয়ে কেশরা এলাকার ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওইসব আবর্জনা স্তূপাকার করে রাখা হয়। সেই জঞ্জালে জৈব ও অজৈব পদার্থ মিশে থাকে। আগের সংস্থা জৈব পদার্থ থেকে প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী পৃথকীকরণের কাজ করত। তাদেরই ডাঁই করা প্লাস্টিক মিশ্রিত জঞ্জাল এখনও ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কোণায় থেকে গিয়েছে। সেগুলিই পুর কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।