Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নোয়াপাড়া থেকে মাইকেলনগরের কাজ শেষের পথে, বারাসত পর্যন্ত মেট্রো চালাতে এবার মাটি পরীক্ষার তোড়জোড়

২০১০-১১ সালে দেশের তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নোয়াপাড়া-বারাসত মেট্রোরেল প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন।

নোয়াপাড়া থেকে মাইকেলনগরের কাজ শেষের পথে, বারাসত পর্যন্ত মেট্রো চালাতে এবার মাটি পরীক্ষার তোড়জোড়
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২০১০-১১ সালে দেশের তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নোয়াপাড়া-বারাসত মেট্রোরেল প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন। বিস্তর কাঠখড় পোড়ানোর পর প্রস্তাবিত এই মেট্রোপথে নোয়াপাড়া থেকে মধ্যমগ্রামের মাইকেলনগর পর্যন্ত লাইন পাতার কাজ অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর খানেকের মধ্যেই নোয়াপাড়া থেকে মাইকেলনগর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে। এবার শুরু হচ্ছে মেট্রোর লাইনকে বারাসত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড়। কাজ শুরুর জন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করে দিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। মোট ন’টি জায়গার মাটি পরীক্ষার জন্য এবার তারা বারাসত ও মধ্যমগ্রাম পুরসভাকে চিঠি দিল।  মধ্যমগ্রাম পুরসভা এলাকায় চারটি ও বারাসত পুরসভায় পাঁচটি জায়গা চিহ্নিত করেছে মেট্রো। 

Advertisement

বারাসত থেকে প্রতিদিন কয়েকলক্ষ মানুষ কলকাতায় যাতায়াত করেন। এক্ষেত্রে মানুষের ভরসা ট্রেন বা বাস। কিন্তু ব্যস্ত যশোর রোডে যানজট নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। ফলে সড়কপথে নাকাল হতে হয় মানুষকে। এর ফলে ট্রেনে ভিড়ও মাত্রাছাড়া হয়। প্রস্তাবিত মেট্রোপথকে দু’টি ভাগে ভাগ করে কাজ চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম ভাগে নোয়াপাড়া, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, যশোর রোড, বিরাটি ও মাইকেলনগর স্টেশনের কাজ চলছে। এর মধ্যে নোয়াপড়া ও দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন হচ্ছে মাটির উপরে। বাকি স্টেশনগুলি হবে মাটির নীচে। এই অংশের কাজই এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে মধ্যমগ্রামের মাইকেলনগর থেকে বারাসত। জমিজটের কারণে এই অংশের কাজ কিছু দিনের জন্য থমকে ছিল। তাছাড়া, কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই অংশে মাটির উপর দিয়ে মেট্রোর কাজে আপত্তি জানায়। তাই বারাসত পর্যন্ত মেট্রোরেল মাটির নীচ দিয়েই নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই অংশের মোট দৈর্ঘ্য ১১.৮৫ কিমি। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাইকেলনগর থেকে গঙ্গানগর নোয়াই খালের নীচ দিয়ে যশোর রোডের সমান্তরালে মধ্যমগ্রাম স্কাউট গ্রাউন্ড, বারাসতের পূর্বাচল, কেএনসি রোড, কাছারি মাঠ, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্ণালী সঙ্ঘ হয়ে শুড়িপুকুরে শেষ হবে এই মেট্রোপথ। সূত্রের খবর, এই পথে প্রস্তাবিত স্টেশনগুলি হল বিধানপল্লি, মধ্যমগ্রাম চৌমাথা, হৃদয়পুর, বারাসত বিদ্যাসাগর স্টেডিয়াম, কাছারি ময়দান, বারাসত ইএমইউ কারশেড, যশোর রোড ও শুড়িপুকুর। মেট্রোর রেক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জয়পুরে ভূগর্ভে ডিপো তৈরির ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে মেট্রো কর্তৃপক্ষ সার্ভে করে প্রাথমিক ড্রয়িং করে ফেলেছে। তারপর মাটি তৈরির পর সয়েল টেস্টের অনুমতি চেয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে পরবর্তী কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। এনিয়ে মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, ‘আমরা চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রয়াস দ্রুত বাস্তবায়িত হোক। কয়েকলক্ষ মানুষের উপকার হবে। সার্বিক পরিবহণ ব্যবস্থার হাল বদলে যাবে। কমবে যানজটও। মেট্রোর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে সয়েল টেস্টের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে আমরা তা দিয়েছি।’ বারাসত পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘বারাসতের সাংসদের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। সয়েল টেস্টের অনুমতিও দিয়ে দেওয়া হয়েছে মেট্রোকে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ