সংবাদদাতা, কাটোয়া : নেপালে হড়পা বানে বিধ্বস্থ সেখানকার জনজীবন৷ নদী বাঁধ দূর্বল থাকলে তা সংস্কারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলছেন তাঁরা৷ মঙ্গলকোটে লাখুরিয়া, পালিগ্রাম অঞ্চল জুড়ে বন্যার হাত থেকে বাঁধ রক্ষায় শাল বল্লা দিয়ে পাইলিংও করা হয়েছে৷ আর পাইলিং এর কাছে যথেচ্ছ ভাবে বালি তোলা হয়েছে। বালি কারবারিদের দৌরাত্ম্যে পাইলিং ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে৷ শাল বল্লা আবার কোথায় উপড়ে ফেলা হয়েছে৷ বালি তোলার ফলে পাইলিং এর কাছে মাটি ধসে যাচ্ছে। এভাবে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কায় গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ। সেচ দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার জানান, পাইলিং দিলে বাঁধকে রক্ষা করা যায়। পাশাপাশি বাঁধ লাগোয়া গ্রাম, জমিও রক্ষা পায়। নদীর জল এসে বাঁধকে সরাসরি যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না করতে পারে তার জন্যই পাইলিং দেওয়া হয় বাঁধের কাছে। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব৷
মঙ্গলকোটের পশ্চিম অংশে চারটি এলাকা ভাঙন প্রবণ। কয়েকবছর ধরে বর্ষায় মঙ্গলকোটের পালিগ্রাম, লাখুরিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙন হচ্ছে। ২০২২-২৩ বর্ষে ১০ কোটি টাকা খরচা করে কাঁঠালবাগান, পালিগ্রাম, কুরগ্রাম এবং নবগ্রাম মাঝিখাড়া এলাকায় কাজ হয়েছে। পাথর ও তারের জাল দিয়ে বাঁধ সংস্কার হয়েছে। সাড়ে চার কিলোমিটার জুড়ে বাঁধ সংস্কারের কাজ হয়েছে। তাছাড়া নদীগর্ভে বোল্ডার দিয়ে বাঁধের কাজ হয়েছে। মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া ও পালিগ্রাম এলাকার বেশকিছু জায়গায় দেখা যায় নদীগর্ভের মধ্যে চড় রয়েছে। সেখানে শাল বল্লা দিয়ে পাইলিং হয়েছিল। বালি তোলার ফলে সেই পাইলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর চরের উর্বর মাটিতে বোরোধান বা রবি ফসলের চাষ, সবজির চাষ হয়ে থাকে।
একসময় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অজয়ের ভাঙনের জেরে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। তাই বাঁধ সংস্কার করে তার কাছেই শাল, বালির বস্তা দিয়ে পাইলিং দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
মঙ্গলকোটের লাখুরিয়ার কুরগ্রামে যথেচ্ছভাবে বালি তোলার ফলে বাঁধের কাছে পাইলিং ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পাইলিং এর কাছে মাটি ধসে যাচ্ছে। ওখানে ছাকনি দিয়ে কয়েকদিন আগে পর্যন্ত বালি তোলা হয়েছে। তাই ওই এলাকায় অজয়ের গর্ভে প্রায় ১০০ ফুট গভীর থেকে বালি তোলা হয়েছে৷ সেখানেই বালি তোলার ফলে পাইলিং এর মাটি ধসে ফাঁক হয়ে গিয়েছে৷ শালগুলোও ভেঙে যাচ্ছে৷ সরকারি কোষাগারের কোটি, কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ সংস্কার হয়েছে৷ আর বালি কারবারিদের দৌরাত্ম্যে মঙ্গলকোটে সেসব ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে৷ সম্প্রতি মঙ্গলকোটের বিধায়ক শিশির ঘোষ অজয়ের বাঁধ পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি জায়গায় বাঁধ দূর্বল হয়েছে। আমরা সেগুলি সেচ দপ্তরকে বলেছি সংস্কারের জন্য।