নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এঁটেল মাটির জোগান নিয়ে এমনিতেই সংকট চলছে। তার উপর একটানা বৃষ্টি যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা নামিয়ে আনল। চলতি বছর হাওড়ার প্রশস্ত পটুয়াপাড়া কার্যত ধুঁকছে। পুজোর মরশুম শুরু প্রাক্কালে প্রমাদ গণছেন মৃৎশিল্পীরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এঁটেল মাটির জোগান নিয়ে এমনিতেই সংকট চলছে। তার উপর একটানা বৃষ্টি যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা নামিয়ে আনল। চলতি বছর হাওড়ার প্রশস্ত পটুয়াপাড়া কার্যত ধুঁকছে। পুজোর মরশুম শুরু প্রাক্কালে প্রমাদ গণছেন মৃৎশিল্পীরা।
দিনকয়েক ধরে বৃষ্টি। তার ফলে জল ঢুকেছে পটুয়াপাড়ার অধিকাংশ কর্মশালায়। বন্ধ প্রতিমা তৈরির কাজ। কোথাও জমা জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে অর্ধেক তৈরি হওয়া প্রতিমা। গণেশ চতুর্থী, বিশ্বকর্মা পুজো সামনে। তারপর আসছে দুর্গাপুজো। এই পরিস্থিতিতে সময়মতো প্রতিমা তৈরি শেষ করে পুজো উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা।
প্রশস্ত পটুয়াপাড়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি প্রতিমা তৈরির কারখানা আছে। অন্যান্য বছর এই সময় বিশ্বকর্মা ও দুর্গা প্রতিমায় সবকটি কর্মশালা ঠাসা থাকে। এবছর বৃষ্টির জলে ধুয়ে কার্যত বিপর্যস্ত পরিস্থিতি। অধিকাংশ কারখানায় জল জমে থাকায় বন্ধ কাজ। জলে মূর্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তা কোনোভাবে রক্ষা করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন শিল্পীরা। কর্মশালার মালিকদের বক্তব্য, খারাপ আবহাওয়ার কারণে একাধিক কারিগর কর্মস্থলে আসতে পারছেন না। অন্যদিকে মূর্তি তৈরির কাজ বন্ধ থাকলেও অনেক কারিগরকে বসিয়ে পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে বলে বাড়ছে লোকসান।
মৃৎশিল্পী বাবুরাম চিত্রকর, প্রণব চিত্রকর ও বিমল চিত্রকর জানালেন, এ বছর এঁটেল মাটি আসা নিয়ে ভোগান্তি চলছে। দীর্ঘদিন ধরেই মাটি আসা বন্ধ। ফলে অন্যান্য বছরের মতো পর্যাপ্ত বরাত নেওয়াই সম্ভব হয়নি। শিল্পীরা গত বছরের তুলনায় অর্ধেক বরাত নিয়েছেন। পরে অবশ্য সরকার হস্তক্ষেপ করে। মাটির জোগান শুরু হয়। কিন্তু দাম যায় বেড়ে। আগে প্রতি ট্রাক এঁটেল মাটি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায় পাওয়া যেত। এবার তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ। বেড়ে হয়েছে ৩৫ হাজার টাকার মতো। খড়, বাঁশ, দড়ি ইত্যাদি প্রতিমা তৈরির সামগ্রীর দামও গিয়েছে বেড়ে। মাটি পর্যাপ্ত পরিমাণ মিলছে না। এ সব কারণে সংকটের ধাক্কা সামলে ওঠা দুঃসহ হয়ে উঠছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। ফলে চরম বিপাকে প্রশস্ত পটুয়াপাড়ার শিল্পীরা। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আবহাওয়ার উন্নতি না হলে বিশ্বকর্মা পুজোর প্রতিমা তৈরি করে উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া কার্যত অসম্ভব বলে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। একই সঙ্গে দুর্গাপুজোর আগে মূর্তি সময়মতো তৈরি করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবমিলিয়ে এ বছর পুজোর আগে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন প্রশস্ত পটুয়াপাড়া।