


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সুউচ্চ বহুতল, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অথবা সরকারি ভবন রক্ষা করতে বজ্র নিরোধকের ব্যবহার নতুন নয়। কিন্তু গ্রাম বাংলার মাঠেঘাটে কাজে যাওয়া কৃষক বা জেলেদের বজ্রপাত থেকে বাঁচানোর উদ্যোগ দেশের কোথাও তেমন চোখে পড়ে না।
নিজের খরচে সেই কাজ করছেন এক স্কুল শিক্ষক। স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে তৈরি করা বজ্র নিরোধক যন্ত্র বসাচ্ছেন মাঠেঘাটে। ছ’বছর আগে বজ্রপাত থেকে বাঁচাতে নতুন ‘আবিষ্কার’ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছিল সোদপুরের দেশবন্ধু বিদ্যাপীঠ (বালক)। স্কুলের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক পশুপতি মণ্ডলের নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রীদের তৈরি বর্জ্য নিরোধক যন্ত্র ২০১৯ সালে ন্যাশনাল চিলড্রেন সায়েন্স কংগ্রেসে পুরস্কার জিতে নিয়েছিল। তারপর পশুপতিবাবু নিজের উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চারটি জেলার মোট ৪০টি জায়গায় বজ্রনিরোধক বসিয়েছেন। বুধবার সোদপুরের গোশালা মাঠে একটি যন্ত্র বসানো হয়েছে।
বজ্রপাত নিরোধকটি কেমন? এটি দেখতে সাইকেলের চাকার মতো। তবে লোহার নয়। অ্যালুমিনিয়ামের পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গোল চাকা। আর মধ্যে রয়েছে ৪০টির বেশি তামার স্পোক। একটি অ্যাঙ্গেলে বসানো রয়েছে চাকাটি। সেখান থেকে তারের মাধ্যমে মাটিতে যাবে বজ্রপাতের ফলে তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ। যন্ত্রটি বাঁশ দিয়ে উপরে বাঁধা রয়েছে। ইতিমধ্যে এই বজ্রনিরোধক যন্ত্র সিপিআরআই (সেন্ট্রাল পাওয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউট) থেকে ছাড়পত্রও পেয়েছে।
পশুপতিবাবু বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বর্ধমান ও হুগলির মোট ৪০টি জায়গায় এই বজ্রনিরোধক লাগানো হয়েছে। সোদপুরের গোশালা মাঠে এদিন একটি যন্ত্র বসানো হয়েছে। ফাঁকা জায়গায় এই বজ্রনিরোধক লাগানো হলে চারপাশে ২১০ মিটার পর্যন্ত বাজ পড়ে বিপদের কোনও আশঙ্কা থাকবে না। এই যন্ত্র তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় হাজার টাকা। শিক্ষক বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বজ্রপাতে মৃতদের ৯৬ শতাংশ জেলে ও কৃষক। তাই পকেটের টাকায় ও স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে এই বজ্রনিরোধক তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় বসাচ্ছি। যাতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাজে আসে। -নিজস্ব চিত্র