


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তিনি বলেছিলেন, ‘যেন মুখে রামনাম নিয়েই মরতে পারি।’ এমনকি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একলা চলো গান’ তাঁকে শক্তি জোগায় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের সামনে তাঁর এই স্বগতোক্তি রয়ে গিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। বিতর্ক থাকলেও অনেকেই দাবি করেন, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি দিল্লির বিড়লা হাউসে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁর মুখ থেকে অস্ফুটে ওই ‘হে রাম’ কথাটিই উচ্চারিত হয়েছিল। আজ শুক্রবার গান্ধীজির ৭৮তম প্রয়াণদিবস শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হবে সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠানে।
১৯৪৭ সাল। স্বাধীনতার প্রাকমহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জ্বলছে সারা বাংলা। ৯ মে বাংলার প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দির আমন্ত্রণে বাংলায় এসেছিলেন গান্ধীজি। উঠেছিলেন তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠানে। চরম অবসাদ ও ক্লান্তি গ্রাস করেছিল তাঁকে। ১৪ মে ডাঃ রায় তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন। জবাবে গান্ধীজি বলেছিলেন, ‘চারদিকে যখন আগুন জ্বলছে, তখন বিশ্রাম নিয়ে নিজের জীবনকে আর দীর্ঘায়িত করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। এখনই কিছু একটা করতে হবে, না-হয় মরতে হবে, এমনই পরিস্থিতি। রামনাম মুখে নিয়েই মরতে চাই।’
মহাত্মা গান্ধী নিজ বিশ্বাস ও ধর্মীয় ভাবনা ব্যক্তসহ আরো বলেছিলেন, ‘গুরুদেবের ভজন ‘একলা চলো রে’ আমাকে শক্তি জোগায়। সেই কারণে, আমি একাকীত্ব অনুভব করি না। ঈশ্বর আমাকে আমার অনেক বন্ধুর বিরুদ্ধে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সাহস দেন। এটাই আমার কাছে ঈশ্বরের প্রকাশ। তাঁর দিব্য সহায়তা। আসলে ঈশ্বর মানুষের রূপে প্রকাশিত হন না। অলংকারে সজ্জিত করে যেভাবে দেখানো হয়, সেভাবেও তাঁকে দেখা যায় না। যদি আমরা সর্বদা সচেতন থেকে ধর্ম ও ন্যায়ের পথে চলতে পারি তবে সেটাই ঈশ্বরের কৃপা ও তাঁকে দর্শনের উপায়।’
প্রসঙ্গত, ১৯২৭ সালের ২ জানুয়ারি সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠানে তাঁর প্রথম আগমনের সময় মহাত্মা বলেছিলেন, ‘এই স্থানটি শ্রীচৈতন্যদেবের পদস্পর্শে পবিত্র।’ ১৯৪৬ সালের ১৮ জানুয়ারি চৈতন্যদেবের পদধূলিধন্য মহোৎসবতলা ঘাটও পরিদর্শন করেন তিনি। গান্ধীজি সোদপুর খাদি আশ্রমে সাতবার এসেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ দিন এই আশ্রমে কেটেছে তাঁর। ইতিহাস গবেষক শেখর শেঠ বলেন, ‘‘হে রাম’ বলতে বলতেই মৃত্যু চেয়েছিলেন গান্ধীজি। বিধানচন্দ্র রায়ের কাছে তাঁর স্বগতোক্তি ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ। অনেকেই দাবি করেন, তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ‘হে রাম’ বলেছিলেন। খাদি প্রতিষ্ঠানে জাতির পিতার প্রয়াণদিবস শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।’ ফাইল চিত্র